ইস্কন বেঙ্গালুরুর মন্দির মালিকানা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বিভক্ত রায়: পুনর্বিবেচনার আবেদন বৃহত্তর বেঞ্চে

বেঙ্গালুরুর বিখ্যাত হরে কৃষ্ণ মন্দিরের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে ইস্কন মুম্বাই (ISKCON Mumbai) এবং ইস্কন বেঙ্গালুরু (ISKCON Bengaluru)-এর মধ্যে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি একটি বিভক্ত রায় দিয়েছে। ইস্কন মুম্বাই মন্দিরটির মালিকানা নিয়ে আদালতের মে ২০২৫-এর মূল রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে যে আবেদন (Review Petition) করেছিল, দুই বিচারপতির বেঞ্চ সেই আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করে।
বিচারপতি জে.কে. মাহেশ্বরী (Justice J.K. Maheshwari) যেখানে পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করার পক্ষে মত দিয়েছেন, সেখানে বিচারপতি এ.জি. মাসিহ (Justice A.G. Masih) – যিনি মূল রায় প্রদানকারী বেঞ্চের অংশ ছিলেন – সেই আবেদন খারিজ করে দেন। এই মতপার্থক্যের কারণে মামলাটির নিষ্পত্তি না হওয়ায়, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির (Chief Justice of India) কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন একটি বৃহত্তর বেঞ্চ গঠন করা হবে, যারা পুনর্বিবেচনার আবেদনটি শুনবেন।
২০২৫ সালের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট একটি যুগান্তকারী রায় দিয়েছিল, যেখানে ইস্কন বেঙ্গালুরুকে একটি স্বাধীন আইনি সত্তা (Independent Legal Entity) এবং বেঙ্গালুরুর Hare Krishna Temple-এর বৈধ মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আদালত কর্ণাটক হাইকোর্টের পূর্বের রায় বাতিল করে ট্রায়াল কোর্টের রায় পুনর্বহাল করেছিল। সেই রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, বেঙ্গালুরুর মন্দির প্রাঙ্গণটি কর্ণাটক সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে নিবন্ধিত ইস্কন বেঙ্গালুরু সোসাইটিকেই বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং ইস্কন মুম্বাইয়ের সেখানে কোনো মালিকানা দাবি করার অধিকার নেই।
কিন্তু ইস্কন মুম্বাইয়ের পুনর্বিবেচনার আবেদনটি গ্রহণ করা হবে কিনা, সেই বিষয়েই এই দুই বিচারপতির বেঞ্চ বিভক্ত হয়ে যাওয়ায়, মন্দিরটির নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা নিয়ে নতুন করে আইনি অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। বিচারপতি মাহেশ্বরী মনে করেছেন, মুম্বাই পক্ষের যুক্তিতে যথেষ্ট সারবত্তা রয়েছে, যা উন্মুক্ত আদালতে (Open Court) শুনানির দাবি রাখে। অন্যদিকে, বিচারপতি মাসিহ মনে করেছেন মূল রায়ে স্পষ্ট কোনো ত্রুটি (Error Apparent) নেই, যার জন্য পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।
এই বিভক্ত রায়ের ফলে এখন মামলাটি বৃহত্তর বেঞ্চের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে এই দীর্ঘদিনের আইনি বিবাদের ভাগ্য।



