ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির শিক্ষাগত নথি সংশোধনের নির্দেশ: এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দিল

এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারকে একটি যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছে। এই নির্দেশে রাজ্য সরকারকে একজন ট্রান্সজেন্ডার আবেদনকারীর শিক্ষাগত নথিপত্র—যেমন মার্কশিট এবং সার্টিফিকেট—সংশোধন করে নতুন করে জারি করতে বলা হয়েছে। আবেদনকারী লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছেন। বিচারপতি বিবেক চৌধুরীর একক বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন।
আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে ট্রান্সজেন্ডার পার্সনস (প্রটেকশন অফ রাইটস) অ্যাক্ট, ২০১৯-এর উদ্দেশ্য হলো রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের আত্ম-অনুভূত লিঙ্গ পরিচয়কে স্বীকৃতি দেওয়া। এই আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, লিঙ্গ পরিবর্তনের শল্যচিকিৎসার (Gender Reassignment Surgery – GRS) পর একজন ব্যক্তি পরিবর্তিত লিঙ্গ পরিচয়ের একটি শংসাপত্রের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারেন।
আবেদনকারী, যিনি GRS-এর মাধ্যমে নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হয়েছেন, তাঁর পূর্বের নথিতে থাকা নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তন করে নতুন নাম ও লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বোর্ডের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত নিয়ম না থাকার কারণ দেখিয়ে এই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল।
হাইকোর্ট এই প্রত্যাখ্যানকে খারিজ করে দিয়ে জানায় যে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির আত্মমর্যাদা এবং সমতার অধিকার সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত। আদালত নির্দেশ দেয় যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিবর্তিত লিঙ্গ পরিচয়ের শংসাপত্র জারি হওয়ার পর, শিক্ষাগত বোর্ডগুলিকে অবিলম্বে সেই অনুযায়ী আবেদনকারীর মার্কশিট ও সার্টিফিকেট সংশোধন করতে হবে এবং নতুন নথি জারি করতে হবে।
এই রায় ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের জন্য সরকারি নথিপত্রে তাদের পরিবর্তিত পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা সমাজে তাদের পূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণের পথ প্রশস্ত করবে। এটি ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের প্রতি বিচার বিভাগের দৃঢ় সমর্থনের পরিচায়ক।



