সুপ্রিমকোর্ট

আইনি নাটকের সমাপ্তি: নিঠারি হত্যাকাণ্ড মামলার শেষ অভিযোগে সুরেন্দর কোলিকে খালাস দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের বহু-আলোচিত ২০০৬ সালের নিঠারি ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড (Nithari Killings) মামলার প্রধান অভিযুক্ত সুরেন্দর কোলিকে শেষ लंबित মামলাতেও খালাস দিয়ে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বি. আর. গাভাই, বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি বিক্রম নাথের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করে। আদালত অবিলম্বে সুরেন্দর কোলিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, যদি না অন্য কোনো মামলায় তার প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেষ

এই রায়ের মধ্য দিয়ে নিঠারি মামলার সাথে জড়িত কোলিকে দোষী সাব্যস্ত করার দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

সুরেন্দর কোলি এই মামলায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট তার সেই সাজা বহাল রেখেছিল। তবে, এলাহাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি অন্যান্য ১২টি নিঠারি হত্যা মামলায় কোলিকে নির্দোষ ঘোষণা করার পরে, কোলি তার শেষ সাজাটির বিরুদ্ধে একটি কিউরেটিভ পিটিশন (Curative Petition) দাখিল করেন। কিউরেটিভ পিটিশন হলো সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শেষ আইনি উপায়।

ন্যায়বিচারের প্রশ্ন

সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে বলেছে যে, যখন একই ধরনের তথ্যপ্রমাণ এবং একই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া ১২টি মামলায় হাইকোর্ট তাকে আগেই খালাস দিয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টও সেই খালাসের রায় বহাল রেখেছে, তখন শুধু একটি মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে রাখা ‘ন্যায়বিচারের প্রহসন’ হতে পারে।

আদালত আরও ইঙ্গিত দিয়েছে যে কোলির দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভিত্তি ছিল কেবল একটি স্বীকারোক্তি এবং একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধারের উপর। তদন্তে ত্রুটি থাকার কারণে সার্কামস্ট্যান্সিয়াল এভিডেন্সের (পরিস্থিতিগত প্রমাণ) শৃঙ্খল প্রমাণিত হয়নি।

অতীতে সিবিআই এই মামলায় কোলির মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানালেও, এলাহাবাদ হাইকোর্ট প্রমাণ ও তদন্তের ব্যর্থতা তুলে ধরে তার সাজা বাতিল করেছিল। জুলাই মাসে সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ১৪টি আপিল খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছিল।

শেষমেশ, এই কিউরেটিভ পিটিশন মঞ্জুর হওয়ায় এবং শেষ মামলাতেও তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায়, সুরেন্দর কোলির মুক্তি নিশ্চিত হলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button