রূপান্তরকামীরা নথিপত্রে নাম-পরিচয় পরিবর্তন করতে পারবেন: বিশেষ আইন মেনে চলার নির্দেশ এলাহাবাদ হাইকোর্টের

একটি যুগান্তকারী রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানাল যে, শিক্ষাগত বোর্ডের পক্ষে রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের (Transgender Persons) শিক্ষাগত নথিতে নাম বা লিঙ্গ পরিবর্তন করতে অস্বীকার করা সম্ভব নয়। আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে, রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষার জন্য তৈরি ‘রূপান্তরকামী ব্যক্তি (অধিকার সুরক্ষা) আইন, ২০১৯’ (Transgender Persons (Protection of Rights) Act, 2019) একটি বিশেষ আইন (Special Legislation) এবং এর বিধানগুলি প্রশাসনিক নিয়মের ঊর্ধ্বে।
শারদ রোশন সিং নামে এক রূপান্তরকামী পুরুষ তাঁর শিক্ষাগত নথিপত্রে নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তনের দাবিতে যে আবেদন করেছিলেন, উত্তরপ্রদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (UP Board) তা খারিজ করে দেওয়ায় তিনি হাইকোর্টে দ্বারস্থ হন। বিচারপতি সৌরভ শ্যাম শামসেরীর একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
আবেদনকারী শারদ জেন্ডার-অ্যাফার্মিং অস্ত্রোপচারের পর ২০১৯ সালের আইন মেনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে ‘পুরুষ’ হিসেবে সংশোধিত পরিচয়পত্র পান। সেই শংসাপত্রের ভিত্তিতেই তিনি বোর্ডের কাছে নাম ও লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু বোর্ড এই বলে আবেদন খারিজ করে দেয় যে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নথিতে এমন পরিবর্তনের কোনো সরকারি অনুমতি বা নিয়ম নেই। বোর্ডের আরও যুক্তি ছিল, এই বিশেষ আইন শিক্ষাগত নথিপত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
হাইকোর্ট বোর্ডের এই যুক্তিকে আইনত অগ্রহণযোগ্য (legally unsustainable) বলে ঘোষণা করে। আদালত স্পষ্ট জানায় যে, ২০১৯ সালের আইনটি রূপান্তরকামী সমাজের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একটি বিশেষ আইন হিসেবে প্রণীত হয়েছে। এই বিশেষ আইনের বিধানগুলিকে এড়িয়ে গিয়ে প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার অজুহাতে বোর্ডের পক্ষে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা আইনের চোখে ভুল।
আদালত আরও উল্লেখ করে, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক একটি রায় (জেন কৌশিক বনাম ভারত সরকার) উদ্ধৃত করে মনে করিয়ে দেয় যে, সাংবিধানিক অধিকারের প্রতিশ্রুতি কেবল আইনের পাতায় লেখা থাকলে তার মূল্য মেলে না; বরং যখন তা ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়িত হয়, তখনই তার প্রকৃত অর্থ পাওয়া যায়। তাই রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের জন্য সমতার এই প্রতিশ্রুতি নিছক একটি নিস্ক্রিয় আশ্বাস নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের একটি সক্রিয় বাধ্যবাধকতা। উত্তরপ্রদেশ বোর্ডের এই প্রত্যাখ্যান বিশেষ আইন এবং সাম্য ও বৈষম্যহীনতার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা উভয়কেই লঙ্ঘন করেছে।
হাইকোর্ট বোর্ডের প্রত্যাখ্যানের নির্দেশটি বাতিল করে দিয়েছে এবং নির্দেশ দিয়েছে যে, আবেদনকারীর শিক্ষাগত নথিতে নাম, লিঙ্গ এবং ছবি পরিবর্তনের জন্য আট সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে এবং সংশোধিত শংসাপত্র জারি করতে হবে।



