খবরাখবর

এম এফ হুসেনের ছবি আত্মসাৎ: দিল্লি আদালত প্রাক্তন সাংসদ ভানওয়ার জিতেন্দ্র সিং-এর বিরুদ্ধে মামলা পুনরায় শুরু করল।

ভারতের প্রয়াত কিংবদন্তি শিল্পী এম. এফ. হুসেনের একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দিল্লি আদালত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ ভানওয়ার জিতেন্দ্র সিং-এর বিরুদ্ধে পুনরায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে।

রাউস এভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং গত ১১ নভেম্বর, ২০২৩-এর একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশকে খারিজ করে দেন। ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শিল্প সংগ্রাহক রোহিত সিং মাহিয়ারিয়া কর্তৃক দায়ের করা এই মামলাটি খারিজ করে দিয়েছিল। তবে বিশেষ বিচারক পর্যবেক্ষণ করেন যে, প্রাথমিক প্রমাণ অনুযায়ী প্রাক্তন সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিশ্বাস ভঙ্গের (Criminal Breach of Trust) অপরাধের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে।

মামলার অভিযোগ: অভিযোগকারী রোহিত সিং মাহিয়ারিয়া দাবি করেছেন যে, তাঁর মা, ড. প্রভা ঠাকুর (প্রাক্তন সাংসদ), ২০১৩ সালে মুম্বাইয়ের একটি গ্যালারি থেকে ২২.৫ লক্ষ টাকায় গণেশ-এর চিত্রকর্মটি কেনেন এবং পরে সেটি তাঁকে উপহার দেন। ২০১৪ সালের এপ্রিলে ভানওয়ার জিতেন্দ্র সিং ছবিটি তাঁর স্ত্রীকে দেখানোর জন্য ড. ঠাকুরের সরকারি বাসভবন থেকে ধার নেন। সেই সময় ছবিটির মূল্য ছিল ১ কোটি টাকারও বেশি।

কিন্তু বছরের পর বছর ধরে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও জিতেন্দ্র সিং ছবিটি ফেরত দেননি। কখনো তিনি বলেন, ছবিটি রাজস্থানের আলোয়ারে আছে, আবার কখনো এর পরিবর্তে অন্য চিত্রকর্ম দেওয়ার প্রস্তাব দেন। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে শতাব্দী এক্সপ্রেসে দেখা হলে তিনি সরাসরি ছবিটি ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং ড. ঠাকুরকে বলেন, “ছবিটির কথা ভুলে যেতে”।

আদালতের সিদ্ধান্ত: বিশেষ বিচারক পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুধু একটি এসএমএস বার্তার উপর নির্ভর করে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আদালত বলেছে, মেসেজগুলির সম্পূর্ণ ক্রম দেখলে বোঝা যায় যে ছবিটি ফেরত চাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল।

আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ছবিটি একটি সীমিত উদ্দেশ্যের জন্য (স্ত্রীকে দেখানোর জন্য) বিশ্বাস করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তা ফেরত দিতে অস্বীকার করা এবং মিথ্যা আশ্বাস দেওয়াই “অসৎ ধরে রাখা এবং আত্মসাৎ” (dishonest retention and misappropriation) প্রতিফলিত করে।

আদালত এই বিবাদকে শুধু দেওয়ানি প্রকৃতির নয়, বরং ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। ফলে, আদালত মামলাটি পুনরায় চালু করে ফৌজদারি বিশ্বাস ভঙ্গের (IPC-ধারা ৪০৬) অভিযোগে ভানওয়ার জিতেন্দ্র সিং-কে তলব করার নির্দেশ দিয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button