দিল্লি হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন অগাস্টা কাণ্ডে অভিযুক্ত ক্রিশ্চিয়ান মিশেল: ভারত-ইউএই প্রত্যর্পণ চুক্তির বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ

দিল্লি হাইকোর্ট সম্প্রতি ভিভিআইপি চপার দুর্নীতি মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ক্রিশ্চিয়ান মিশেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন বিবেচনা করতে অস্বীকার করেছে। মিশেল ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)-এর মধ্যে সাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির একটি নির্দিষ্ট বিধানকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানিয়েছিলেন। আদালত এই আবেদনটিকে ‘ঘোষণামূলক’ (declaratory) প্রকৃতির উল্লেখ করে খারিজ করে দেয়।
আবেদনের মূল বিষয় কী ছিল?
ব্রিটিশ নাগরিক ক্রিশ্চিয়ান মিশেলকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দুবাই থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়। তিনি অগাস্টা ওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি চপার প্রস্তুতকারক সংস্থার মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ভারতে আসার পর থেকে তিনি জেলেই আছেন।
মিশেল হাইকোর্টে ভারত-ইউএই প্রত্যর্পণ চুক্তির আর্টিকেল ১৭-কে চ্যালেঞ্জ করেন। এই ধারায় বলা আছে, যে অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ করা হয়, সেই অপরাধের পাশাপাশি ‘সংযুক্ত’ (connected) অন্যান্য অপরাধের জন্যও তার বিচার করা যেতে পারে।
মিশেলের আইনজীবীর মূল যুক্তি ছিল যে, এই ধারাটি ভারতীয় প্রত্যর্পণ আইনের ধারা ২১-এর পরিপন্থী। ভারতীয় আইনে বলা আছে, প্রত্যর্পিত ব্যক্তির বিচার শুধুমাত্র সেই অপরাধগুলোর জন্য করা যেতে পারে, যা প্রত্যর্পণের ডিক্রিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিশেলের অভিযোগ ছিল, যদিও দুবাই আদালতের প্রত্যর্পণ আদেশে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৬৭ ধারার (যা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডযোগ্য) উল্লেখ ছিল না, তবুও ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি সেই ধারা যুক্ত করে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছে। এই সংযুক্ত ধারার মাধ্যমে ভারতের আইনি সংস্থাগুলি প্রত্যর্পণের সুরক্ষাকবচ লঙ্ঘন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
আদালতের অবস্থান
বিচারপতি বিবেক চৌধুরী এবং বিচারপতি মনোজ জৈনের ডিভিশন বেঞ্চ মিশেলের এই আবেদনের শুনানি করে। আদালত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে:
১. ঘোষণামূলক ত্রাণ নয়: আদালত মন্তব্য করে যে, তারা শুধুমাত্র ‘আমার এই অধিকার, এটিকে ঘোষণা করুন’—এই ধরনের আবেদন মঞ্জুর করতে পারে না। আদালত জানতে চায়, মিশেল এই আবেদনের মাধ্যমে আসলে কী ধরনের ফলস্বরূপ ত্রাণ (consequential relief) চাইছেন, অর্থাৎ কী ধরনের নির্দিষ্ট মুক্তির দাবি করছেন।
২. আইন হিসেবে চুক্তি: হাইকোর্ট আরও জানায়, ভারত-ইউএই প্রত্যর্পণ চুক্তিটি ভারতীয় সংসদে পাশ করা কোনো আইন নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। যেহেতু এটি কোনো আইন নয়, তাই এটিকে বেআইনি বা ‘আলট্রা ভায়ারেস’ (ultra vires) ঘোষণা করা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। আদালতের মতে, এটি যেন একটি প্রস্তাবিত বিলের মতো। কোনো প্রস্তাবিত বিলের ওপর ভিত্তি করে যদি কারও বিচার হয়, তবে তিনি তার প্রতিকার উপযুক্ত প্রক্রিয়ায় চাইতে পারেন।
আদালত এই মন্তব্য করে যে, মিশেল বর্তমান আবেদনটি প্রত্যাহার করে একটি সঠিক ও সম্পূর্ণ প্রতিকারসহ নতুন আবেদন দায়ের করতে পারেন। এরপর মিশেলের আইনজীবী জানান, তিনি সেই অনুযায়ী আবেদন পেশ করবেন।
এই রায়ের ফলে প্রত্যর্পণ চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা নিয়ে আইনি বিতর্ক আপাতত স্থগিত রইল, তবে আদালতের নির্দেশ অনুসারে মিশেলের এখন নতুন করে আইনি লড়াই শুরু করতে হবে।



