সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০% অক্ষম ২৪ বছর বয়সী মহিলার ক্ষতিপূরণ ৮৫ লক্ষ টাকা করল সুপ্রিম কোর্ট

একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালের সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত এক ২৪ বছর বয়সী মহিলার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। পূর্বে কর্ণাটক হাইকোর্ট ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট বাড়িয়ে ৮৫.০৯ লক্ষ টাকা করেছে। আদালত বলেছে, নিম্ন আদালতগুলি তার ক্ষতির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।
ক্ষতিপূরণপ্রাপ্ত মহিলা, রেশমা, ২০১৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বেলাগাভিতে একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। এই দুর্ঘটনার ফলে তার ১০০% কার্যকরী অক্ষমতা দেখা যায়, যার মধ্যে ৮৫% মানসিক অক্ষমতা এবং বাম পায়ের নিচের অংশে ৪৫% অক্ষমতা রয়েছে। গাড়িচালকের বেপরোয়া এবং অবহেলার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।
মোটর অ্যাক্সিডেন্ট ক্লেমস ট্রাইব্যুনাল (MACT) প্রথমে ২০১৭ সালে ৩০.২৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়। পরে কর্ণাটক হাইকোর্ট সেই পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে ৩৫.৮৬ লক্ষ টাকা করে। এই সংশোধিত রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে রেশমা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি তার দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজন, যেমন— পরিচর্যাকারীর খরচ, বিবাহের সম্ভাবনা হারানো এবং ভবিষ্যতের চিকিৎসা খরচগুলির জন্য আরও বাস্তবসম্মত মূল্যায়নের দাবি জানান।
বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের এবং বিচারপতি ননগমিকাপাম কোটিশ্বর সিং-এর একটি বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, নিম্ন আদালতগুলি তার আয়ের পরিমাণ কিছুটা সঠিক মূল্যায়ন করলেও, তার সারাজীবনের নির্ভরশীলতা এবং স্বায়ত্তশাসন হারানোর জন্য ক্ষতিপূরণ “মারাত্মকভাবে অবমূল্যায়ন” করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট তার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে বাড়িয়েছে:
-
পরিচর্যার খরচ (Attendant Charges): ২৪ ঘন্টা যত্নের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে, আদালত দুজন ফুল-টাইম পরিচর্যাকারীর খরচ বাবদ ৪৩.২০ লক্ষ টাকা অনুমোদন করেছে।
-
বিবাহের সম্ভাবনা হারানো (Loss of Marital Prospects): এই খাতে আদালত রেশমাকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
-
যন্ত্রণা ও দুর্ভোগ (Pain and Suffering): আজীবনের এই অক্ষমতা এবং ট্রমার জন্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
মোট হিসাবের পর রেশমাকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৫,০৯,৩৬৯ টাকা। আদালত বিমা সংস্থাকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরাসরি রেশমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা করার নির্দেশ দিয়েছে।
আদালত এই মামলাটিকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট অনুস্মারক হিসেবে উল্লেখ করেছে। আদালত জানায়, যদিও কোনো আর্থিক পরিমাণই একজন তরুণীর হারানো সুযোগ ফিরিয়ে আনতে পারে না, তবে আদালতগুলিকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে অবহেলার শিকাররা যেন ন্যায্য এবং অর্থপূর্ণ সাহায্য পান।



