“অপরাধের রেকর্ড আছে এমন আইনজীবীরা বিচার ব্যবস্থার কাজ ব্যাহত করেন”: রাজ্যের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য চাইল এলাহাবাদ হাইকোর্ট

বিচার ব্যবস্থার উপর জন-আস্থা অটুট রাখতে এবং আদালতের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে এলাহাবাদ হাইকোর্ট উত্তরপ্রদেশের সমস্ত আইনজীবীদের ফৌজদারি মামলার তথ্য সংগ্রহের জন্য এক যুগান্তকারী নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি বিনোদ দিওয়াকরের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে যে, গুরুতর অপরাধের রেকর্ডধারী আইনজীবীদের উপস্থিতি জেলা আদালতগুলির কাজে প্রায়শই প্রভাব ফেলে। আদালত উল্লেখ করেছে, অনেক সময় এমন আইনজীবীরা বার অ্যাসোসিয়েশনের গুরুত্বপূর্ণ পদও দখল করে থাকেন, এবং তাঁদের পূর্বের কার্যকলাপ পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচারের উপর প্রভাব ফেলে। আদালত সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘পেশাগত বৈধতার পোশাকের আড়ালে’ পুলিশ বা আদালত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারে।
আদালত এই মর্মে উদ্বেগ প্রকাশ করে যে, বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা নষ্ট করে এমন কোনো পরিস্থিতিকেই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তাই এই সমস্যাটির মূল্যায়নের জন্য আদালত তার তত্ত্বাবধানমূলক এখতিয়ার (সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৭) ব্যবহার করেছে এবং রাজ্য জুড়ে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন সমস্ত ফৌজদারি মামলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে।
এই নির্দেশের মাধ্যমে উত্তরপ্রদেশের ডিজিপি (পুলিশ মহাপরিদর্শক), ডিজিপি (প্রসিকিউশন) এবং সমস্ত জেলা পুলিশ আধিকারিকদের বলা হয়েছে যেন তাঁরা বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন প্রতিটি ফৌজদারি মামলার জেলাভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য দ্রুত জমা দেন।
আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে জমা দেওয়া তথ্যে এফআইআর নম্বর ও তারিখ, মামলার ধারা, জড়িত অপরাধ, পুলিশ স্টেশনের নাম, তদন্তের অবস্থা, চার্জশিটের তারিখ, অভিযোগ গঠনের তারিখ এবং বিচারের বর্তমান ধাপের মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। আদালত প্রশাসনকে সতর্ক করেছে যে এই তথ্য সংগ্রহের কাজে কোনো রকম গাফিলতি করা হলে তা গুরুতর বলে বিবেচিত হবে। প্রয়োজনে এই তথ্য সীল করা খামে সরাসরি বা রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে জমা দেওয়া যেতে পারে।
প্রসঙ্গত, এই আদেশটি একটি বিশেষ মামলার শুনানির সময় দেওয়া হয়, যেখানে আবেদনকারী আইনজীবী মহম্মদ কাফিল নিজেই তিনটি ফৌজদারি মামলায় (যার মধ্যে ইউপি গ্যাংস্টার ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনও রয়েছে) অভিযুক্ত ছিলেন। এই মামলাটির তথ্য এবং অন্যান্য আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আদালত মনে করে যে, এই সমস্যাটি স্থানীয় নয়, বরং এটি সমগ্র রাজ্যের বিচার ব্যবস্থার একটি বৃহত্তর বিষয়, যার জন্য দ্রুত ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিচার ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষা এবং জনগণের বিশ্বাস বজায় রাখার জন্য আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছে।



