
কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত নতুন ভাড়া আইন ২০২৫ (যা মডেল টেন্যান্সি অ্যাক্টের ভিত্তিতে তৈরি) আগামী বছর থেকে ভারতের আবাসন ভাড়ার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সুশৃঙ্খল এবং ভাড়াটে-বান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ব্যাঙ্গালোর, পুনে, দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলিতে, যেখানে ভাড়ার বাজারে বহু বছর ধরে নানা জটিলতা বিদ্যমান, সেখানে কোটি কোটি ভাড়াটে এই নিয়মের সুবিধা পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
১. জামানতের (সিকিউরিটি ডিপোজিট) সীমা নির্ধারণ: ভাড়াটেদের জন্য এই নতুন আইনের সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো জামানতের ক্ষেত্রে নতুন সীমা। এখন থেকে আবাসিক সম্পত্তির ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালা সর্বোচ্চ দুই মাসের ভাড়া সমপরিমাণ অর্থ জামানত হিসেবে নিতে পারবেন। বাণিজ্যিক স্থানের জন্য এই সীমা ছয় মাসের ভাড়া। আগে বড় শহরগুলিতে দেখা যেত, বাড়িওয়ালারা ৬ থেকে ১০ মাসের ভাড়া জামানত হিসেবে চাইতেন, যার ফলে ভাড়া নেওয়ার শুরুতেই একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক বোঝা চাপত। নতুন নিয়মে সেই অনিয়ম বন্ধ হবে।
২. বাধ্যতামূলক ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন: আইনটি কার্যকর হলে সমস্ত ভাড়ার চুক্তিপত্রের অবশ্যই ডিজিটাল স্ট্যাম্পিং করতে হবে এবং চুক্তির ৬০ দিনের মধ্যে তা অনলাইনে নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এই বাধ্যতামূলক অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের ফলে চুক্তির শর্তাবলী স্বচ্ছ থাকবে এবং ভুয়ো চুক্তি ও অবৈধ উচ্ছেদ ঠেকানো সহজ হবে। সময়মতো নিবন্ধন না হলে রাজ্যভেদে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ হতে পারে।
৩. ভাড়া বৃদ্ধি ও উচ্ছেদের নিয়ম: ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকেও কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে। এখন থেকে ভাড়া শুধুমাত্র ১২ মাস বা এক বছর অন্তর বাড়ানো যাবে। তবে, বাড়িওয়ালাকে অবশ্যই ভাড়া বাড়ানোর কমপক্ষে ৯০ দিন আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। এছাড়াও, চুক্তিভঙ্গ না হলে বা আদালতের আদেশ ছাড়া কোনোভাবেই ভাড়াটেদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না। ভাড়াটেদের হয়রানি করতে জল বা বিদ্যুতের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা এখন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
৪. মেরামত এবং গোপনীয়তা: ভাড়াটেদের গোপনীয়তা বজায় রাখতে, বাড়িওয়ালাকে সম্পত্তি পরিদর্শনের জন্য বা মেরামতের কাজে বাড়িতে প্রবেশের কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। যদি কোনো জরুরি মেরামতের প্রয়োজন হয় এবং বাড়িওয়ালা ৩০ দিনের মধ্যে সেই ব্যবস্থা না নেন, তবে ভাড়াটে সেই খরচ বহন করে ভাড়ার টাকা থেকে তা কেটে নিতে পারবেন (অবশ্যই খরচের প্রমাণ সাপেক্ষে)।
এই নিয়মগুলি ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা আনবে এবং ভাড়াটে ও বাড়িওয়ালা উভয়ের জন্য একটি সুসংগঠিত পরিবেশ তৈরি করবে।



