থানার মধ্যে পুলিশের মস্তানি, আইনজীবীকে হেনস্থা, বার কাউন্সিলের কড়া চিঠি, সাসপেন্ড ২ পুলিশকর্মী

রাজস্থানের যোধপুরের কুড়ি ভগৎসুনি হাউজিং বোর্ড পুলিশ স্টেশনে একজন আইনজীবীর প্রতি পুলিশ আধিকারিকের দুর্ব্যবহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনজীবীরা তীব্র প্রতিবাদ শুরু করলে অবশেষে হাইকোর্টের কড়া নির্দেশে স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) হামির সিং এবং একজন কনস্টেবলকে (রিডার) সাসপেন্ড করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছিল যখন অ্যাডভোকেট ভরত সিং রাঠোর তার ধর্ষণের শিকার মক্কেলকে নিয়ে তার বয়ান নথিভুক্ত করার জন্য থানায় যান। তার সঙ্গে তার স্ত্রী, যিনি নিজেও একজন আইনজীবী, উপস্থিত ছিলেন। থানায় ডিউটিরত একজন পুলিশকর্মী যখন উর্দি ছাড়াই আইনজীবীর মক্কেলের আধার কার্ড দেখতে চান, তখন অ্যাডভোকেট রাঠোর এই বিষয়ে আপত্তি তোলেন। তিনি থানা অধিকারিককে প্রশ্ন করেন যে কেন উর্দি ছাড়া তিনি থানার ভেতরে সরকারি কাজ করছেন।
এই সামান্য প্রশ্ন থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, কুড়ি থানার এসএইচও হামির সিং আইনজীবীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং অত্যন্ত অশালীন ব্যবহার করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শোনা যায়, ক্ষিপ্ত এসএইচও আইনজীবী ভরত সিং রাঠোরকে উদ্দেশ্য করে হুমকি দিয়ে বলেন, “আইনজীবী হলে কী হবে? আমি তোমাকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করে জেলে ঢুকিয়ে দেব, তোমার সব আইনি কাজ এখানেই নষ্ট করে দেব।” এরপর এসএইচও এবং অন্য পুলিশকর্মীরা ওই আইনজীবীকে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং তার কোট ছিঁড়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে আইনজীবীরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। শতাধিক আইনজীবী রাতভর থানার বাইরে ধরনায় বসেন এবং অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের অবিলম্বে সাসপেনশন ও গ্রেফতারের দাবি জানান। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয় যে যোধপুর আইনজীবী সমিতি এবং হাইকোর্ট লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে বিচারিক কাজ বয়কটের ঘোষণা করে।
বিষয়টি রাজস্থান হাইকোর্টের নজরে আসে এবং আদালত স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) হয়ে মামলাটির বিচার শুরু করে। হাইকোর্টের কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব প্রকাশ শর্মা এবং বিচারপতি বিএস সাঁধুর ডিভিশন বেঞ্চ ভিডিওটি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আদালত পুলিশ কমিশনার ওম প্রকাশকে তলব করে। শুনানির সময় পুলিশ কমিশনার আদালতে স্বীকার করেন যে এসএইচও-এর ব্যবহার একেবারেই অনুপযুক্ত ছিল।
আদালত পুলিশ আধিকারিকদের এই ধরনের আচরণের জন্য তীব্র ভর্ৎসনা করে এবং অবিলম্বে এসএইচও হামির সিং ও কনস্টেবল নরেন্দ্র সিংকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেয়। এছাড়াও, পুলিশ কমিশনার ও রাজ্য সরকারকে সব পুলিশকর্মীকে ‘সফট স্কিল ট্রেনিং’ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে তারা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে আইনজীবীদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করতে পারেন। আদালত বার এবং পুলিশের মধ্যেকার বিবাদ মেটানোর জন্য প্রতি জেলা স্তরে সমন্বয় কমিটি (Coordination Committee) গঠনেরও নির্দেশ দেয়।



