‘জেল হবে সংশোধনাগার’— পাঞ্জাবে ভারতের বৃহত্তম বন্দি পুনর্বাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত

ভারতের বিচারব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত (Justice Surya Kant) পাঞ্জাবে দেশের বৃহত্তম ‘জেল পুনর্বাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন মিশন’-এর উদ্বোধন করলেন। গত ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ভার্চুয়ালি গুরুগ্রামের জেলা সংশোধনাগার থেকে এই প্রকল্পের সূচনা করেন তিনি। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শাস্তিমূলক বিচারব্যবস্থা (Punitive Justice) থেকে সরে এসে সংশোধনমূলক বিচারব্যবস্থার (Reformative Justice) দিকে অগ্রসর হওয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট এবং পাঞ্জাব কারা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল (Justice Rajesh Bindal) এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ (Justice Augustine George Masih)। এছাড়াও পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি শিল নাগ (Justice Sheel Nagu) এবং অন্যান্য বরিষ্ঠ বিচারপতিরা এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন।
প্রকল্পের মূল বিষয়বস্তু
“এমপাওয়ারিং লাইভস বিহাইন্ড বারস” (Empowering Lives Behind Bars) বা ‘কারান্তরালে জীবনের ক্ষমতায়ন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পাঞ্জাবের ২৪টি জেলেই বন্দিদের জন্য ভোকেশনাল ট্রেনিং বা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চণ্ডীগড়ের বুড়াইল মডেল জেলে ইতিমধ্যেই ‘জীবন ধারা’ নামে একটি পূর্ণাঙ্গ আইটিআই (ITI) স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে বন্দিরা এনসিভিইটি (NCVET) স্বীকৃত প্রশিক্ষণ পাবে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেলাই প্রযুক্তি এবং কাঠের কাজের ওপর এক বছরের সার্টিফিকেট কোর্স শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইলেকট্রিশিয়ানের মতো বিষয়েও ডিপ্লোমা কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাঞ্জাব সরকার জেলের ভেতরে ১১টি নতুন আইটিআই স্থাপন করতে চলেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২,৫০০ বন্দি দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের সুবিধা পাবে।
কেন এই উদ্যোগ?
প্রধান বিচারপতির মতে, জেলের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অপরাধীকে বন্দি করে রাখা নয়, বরং তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দিরা বেকারি, মাশরুম চাষ, জুট প্রোডাক্ট তৈরি এবং কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের মতো কাজ শিখবে। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর যাতে তারা কাজ পায়, তার জন্য এমএসএমই (MSME) এবং জেলা কর্মসংস্থান দপ্তরের মাধ্যমে সাহায্যের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় বন্দিদের জন্য পেট্রোল পাম্প পরিচালনা, খেলাধুলা, যোগব্যায়াম এবং ‘রেডিও উজালা’র মতো সৃজনশীল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই একই অনুষ্ঠানে পাঞ্জাব স্টেট লিগাল সার্ভিসেস অথরিটির মাদক বিরোধী প্রচার ‘ইয়ুথ এগেইনস্ট ড্রাগস’ (Youth Against Drugs)-এরও সূচনা করেন প্রধান বিচারপতি।



