মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার নির্বাচনী জয় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ: নজরে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’
রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কি নির্বাচনী দুর্নীতি? সিদ্দারামাইয়ার জয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নোটিশ

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জয় এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আতশকাঁচের তলায়। নির্বাচনে জয়ী হতে ভোটারদের দেওয়া কংগ্রেসের ‘পাঁচটি গ্যারান্টি’ বা প্রতিশ্রুতি কি আদতে এক ধরনের নির্বাচনী ‘ঘুষ’ (Bribery) বা অনৈতিক প্রভাব? এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দায়ের করা একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ জারি করেছে।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারপতিদের পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ (Justice Vikram Nath) এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতা (Justice Sandeep Mehta)-র সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আবেদনটি গ্রহণ করেছেন। মামলাটি দায়ের করেছেন কর্ণাটকের বরুণা (Varuna) বিধানসভা কেন্দ্রের একজন ভোটার কে শঙ্কর। তাঁর অভিযোগ, ২০২৩ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের ইশতেহারে ঘোষিত বিদ্যুৎ, রেশন এবং মহিলাদের নগদ সহায়তার মতো ‘পাঁচটি গ্যারান্টি’ আসলে ভোটারদের প্রলুব্ধ করার জন্য একটি দুর্নীতির কৌশল (Corrupt Practice) ছিল।
হাইকোর্টের রায় ও বর্তমান বিতর্ক
এর আগে, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল কর্ণাটক হাইকোর্ট এই একই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। হাইকোর্টের বিচারপতি এস সুনীল দত্ত যাদব রায় দিয়েছিলেন যে, রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বা ম্যানিফেস্টো আইনিভাবে বাধ্যতামূলক নয়, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘোষণা। ফলে একে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে দুর্নীতি বা ঘুষ হিসেবে গণ্য করা যায় না।
তবে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন মনে করছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, একটি রাজনৈতিক দলের ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে ঠিক কীভাবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত দুর্নীতিমূলক কাজ হিসেবে দেখা হবে? যদিও ২০১৩ সালের একটি পুরনো রায়ে (Subramaniam Balaji case) বলা হয়েছিল যে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি দুর্নীতি নয়, কিন্তু বর্তমান বেঞ্চ সেই ধারণাটি আরও গভীরে খতিয়ে দেখতে চায়।
কেন এই মামলাটি জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ?
এই মামলার রায় কেবল সিদ্দারামাইয়ার ব্যক্তিগত ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, বরং ভারতের সামগ্রিক নির্বাচনী রাজনীতির গতিপথ বদলে দিতে পারে।
-
যদি আদালত এই ধরনের গ্যারান্টি বা ‘ফ্রিবিস’ (Freebies)-কে ‘করাপ্ট প্র্যাকটিস’ হিসেবে রায় দেয়, তবে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলো আর কোনো জনকল্যাণমূলক নগদ সহায়তা বা উপহারের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না।
-
অন্যদিকে, যদি আদালত হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে, তবে নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল ‘রাজনৈতিক বিজ্ঞপ্তি’ হিসেবেই বৈধতা পাবে।
পরবর্তী ধাপ
সুপ্রিম কোর্টের এই নোটিশ জারির অর্থ হলো সিদ্দারামাইয়াকে এখন তাঁর জয়ের বৈধতা রক্ষায় আদালতের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। দেশজুড়ে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক দলগুলো এখন সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত পর্যবেক্ষণের দিকে তাকিয়ে আছে।



