সুপ্রিম কোর্টে খারিজ সঞ্জীব ভাটের আবেদন: ১৯৯৬ সালের মাদক মামলায় সাজা মকুবের আর্জি নামঞ্জুর

১. ঘটনার পটভূমি
১৯৯৬ সালের একটি মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত মামলায় ২০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত গুজরাটের প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভাট তাঁর সাজার স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়।
-
ঘটনার উৎপত্তি: ১৯৯৬ সালে গুজরাটের বানাসকাঁথা জেলার পালানপুরে ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় সঞ্জীব ভাট বানাসকাঁথা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
-
অভিযোগ: তাঁর তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশ রাজস্থানের জয়পুরের বাসিন্দা এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মিথ্যা অভিযোগ এনে তাঁকে গ্রেফতার করে। পুলিশ দাবি করেছিল, ওই আইনজীবীর পালানপুরের হোটেল রুমে মাদক পাওয়া গেছে।
-
সত্যতা উদঘাটন: পরবর্তীতে রাজস্থান পুলিশ নিশ্চিত করে যে, বানাসকাঁথা পুলিশ ওই আইনজীবীকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসিয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজস্থানের পালি-তে অবস্থিত একটি বিতর্কিত সম্পত্তির দখল নিতে ওই আইনজীবীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
-
আইনি প্রক্রিয়া শুরু: ১৯৯৯ সালে প্রাক্তন পুলিশ পরিদর্শক আই. বি. ব্যাস এই মামলাটির সার্বিক তদন্তের জন্য গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন জানান।
২. অভিযুক্ত এবং অভিযোগ
-
বিবাদী/অভিযুক্ত: প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভাট। তিনি ২০১৫ সালে চাকরিচ্যুত হন এবং ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থ আইন (NDPS Act)-এর অধীনে রাজ্য সিআইডি দ্বারা গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তিনি পালানপুর সাব-জেলে বন্দী আছেন।
-
অভিযোগ/আইনি ধারা: মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক পদার্থ আইন (NDPS Act)-এর অধীনে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো।
-
আবেদনকারী: এই আপিলে, সঞ্জীব ভাট তাঁর কারাদণ্ডের সাজার স্থগিতাদেশ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন।
৩. বিচারিক প্রক্রিয়া ও আদালতের নাম
-
সেশনস কোর্টের রায়: ১৯৯৬ সালের এই মাদক মামলায় পালানপুরের দায়রা আদালত (Sessions Court) সঞ্জীব ভাটকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাঁকে ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।
-
হাইকোর্ট/সুপ্রিম কোর্ট: এই সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
-
পূর্ববর্তী পদক্ষেপ: গত বছর তিনি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে প্রায় তিন দশকের পুরোনো এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া অন্য দায়রা আদালতে স্থানান্তরিত করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই সময়েও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয় এবং নিম্ন আদালতের বিচারকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলার জন্য তাঁকে ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করে।
৪. আদালতের পর্যবেক্ষণ ও চূড়ান্ত রায়
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জে. কে. মাহেশ্বরী (Justice J K Maheshwari) এবং বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোই (Justice Vijay Bishnoi)-এর একটি বেঞ্চ সঞ্জীব ভাটের আবেদনটি বিবেচনা করে।
-
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বেঞ্চ এই আপিলটি বিবেচনা করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে। আদালত মনে করে, এই পর্যায়ে সাজার স্থগিতাদেশের মতো কোনো ত্রাণ মঞ্জুর করার অবকাশ নেই।
-
চূড়ান্ত রায় ও নির্দেশ: সুপ্রিম কোর্ট প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সঞ্জীব ভাটের ২০ বছরের কারাদণ্ডের সাজার স্থগিতাদেশের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। এর ফলে সঞ্জীব ভাট এই মামলায় কোনো আইনি সুরাহা পাননি।
৫. রায়ের নির্যাস (গুরুত্ব)
এই রায়টি প্রমাণ করে যে, গুরুতর ফৌজদারি মামলায় একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরে, আপিল প্রক্রিয়াধীন থাকলেও, সাজার স্থগিতাদেশ বা দ্রুত মুক্তি পাওয়া কঠিন। এটি মামলার তথ্য ও প্রমাণের গুরুত্বকে প্রাধান্য দেয় এবং সাজার স্থগিতাদেশ চাওয়ার ক্ষেত্রে আদালতের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে। মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানোর মতো গুরুতর অপরাধে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়রা আদালতের রায়কে সম্মান করার বিষয়টি এই রায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।



