খবরাখবর

বিমান যন্ত্রাংশ পুনরায় আমদানিতে ৯০০ কোটি টাকার বেশি শুল্ক ফেরতের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টে ইন্ডিগো

সরকারকে বিপাকে ফেলতে ইন্ডিগোর পাল্টা চাপের কৌশল

ভারতের বৃহত্তম বিমান সংস্থা ইন্ডিগো (InterGlobe Aviation Ltd) বিমান ইঞ্জিন এবং যন্ত্রাংশ মেরামতের জন্য বিদেশে পাঠানোর পর ভারতে তা পুনরায় আমদানির (Re-import) সময় পরিশোধ করা ৯০০ কোটি টাকারও বেশি কাস্টমস ডিউটি (Customs Duty) বা শুল্ক ফেরতের দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। ইন্ডিগো দাবি করেছে যে একই লেনদেনের উপর বারবার শুল্ক আরোপ করা অসাংবিধানিক এবং এটি দ্বিগুণ করার (Double Levy) সামিল।

শুক্রবার বিচারপতি প্রতিভা এম সিং এবং বিচারপতি শৈল জৈন-এর ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শুরু হলেও, বিচারপতি শৈল জৈন মামলাটি শুনতে অস্বীকার করেন (Recused)। কারণ, তাঁর ছেলে ইন্ডিগোতে পাইলট হিসাবে কর্মরত। এখন প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী অন্য বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।

ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে আইনজীবী ভি লক্ষ্মীকুমারন আদালতে জানান যে বিমান ইঞ্জিন এবং যন্ত্রাংশ মেরামতের পর পুনরায় আমদানির সময় তারা মৌলিক শুল্ক (Basic Customs Duty) দিয়েছে। এছাড়াও, যেহেতু মেরামতকে একটি পরিষেবা (Service) হিসাবে গণ্য করা হয়, তাই তারা রিভার্স চার্জের ভিত্তিতে পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) পরিশোধ করেছে। কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ একই লেনদেনকে ‘পণ্য আমদানি’ হিসাবে গণ্য করে আবার শুল্ক আরোপ করার জন্য জোর দেয়।

বিমান সংস্থার যুক্তি হলো, কাস্টমস ট্রাইব্যুনাল (Customs Tribunal) এই বিষয়টি আগেই নিষ্পত্তি করেছিল এবং রায় দিয়েছিল যে মেরামতের পর পুনরায় আমদানিতে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা যাবে না। যদিও পরে শুল্ক ছাড়ের বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন আনা হয়েছিল, ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছিল সেই পরিবর্তনগুলি শুধুমাত্র ভবিষ্যতের জন্য প্রযোজ্য হবে। ইন্ডিগো আদালতে আরও উল্লেখ করে যে, একই আমদানির উপর পুনরায় শুল্ক আরোপ করাকে দিল্লি হাইকোর্ট আগেই অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তির অংশ বাতিলও করেছে।

এতকিছুর পরেও, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের বিমান ইঞ্জিন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের ছাড়পত্র পেতে ইন্ডিগোকে শুল্ক দিতে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ। ইন্ডিগো জানায়, জিএসটি-এর মতো স্ব-মূল্যায়নের সুযোগ কাস্টমস-এর ক্ষেত্রে নেই এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের অনুমোদন ছাড়া বিমান যন্ত্রাংশ আটকে রাখলে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যেত। এই কারণে, তারা ৪,০০০টিরও বেশি বিল অফ এন্ট্রি-র মাধ্যমে “প্রতিবাদের অধীনে” (Under Protest) ৯০০ কোটি টাকারও বেশি শুল্ক পরিশোধ করতে বাধ্য হয়।

পরে ইন্ডিগো যখন সেই অর্থের জন্য ফেরতের দাবি জানায়, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তখন প্রত্যেকটি বিল অফ এন্ট্রি-র জন্য আলাদা করে পুনরায় মূল্যায়ন (Reassessment) করার দাবি জানায়। ইন্ডিগো এটিকে অন্যায্য বলে দাবি করেছে, কারণ তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিবাদের অধীনে অর্থ পরিশোধ করেছে এবং এই বিষয়ে আদালত ইতিমধ্যেই তাদের পক্ষে রায় দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দিল্লি হাইকোর্ট রায় দিয়েছিল যে বিদেশে মেরামতের পর বিমান যন্ত্রাংশের পুনঃআমদানি আসলে ‘পণ্যের আমদানি’ নয়, বরং এটি একটি ‘পরিষেবার সরবরাহ’। তাই জিএসটি ব্যবস্থার অধীনে লেনদেন একবার করযুক্ত হলে, কাস্টমস শুল্ক আইনে অতিরিক্ত কর চাপানো যায় না। বর্তমানে এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button