
মথুরার বৃন্দাবনের ঠাকুর শ্রী বাঁকে বিহারী জি মহারাজ মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ও কার্যকারিতা নিয়ে সৃষ্ট কিছু গুরুতর সমস্যা সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। মন্দিরের ব্যবস্থাপনা কমিটি (Management Committee of Thakur Shree Bankey Bihari Ji Maharaj Temple) একটি পিটিশন দাখিল করেছে, যেখানে দরশনের সময় পরিবর্তন এবং প্রথাগত ‘দেহরি পূজা’ বন্ধ করে দেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে।
সংবেদনশীল বিষয়গুলির উত্থাপন ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট শ্যাম দিভান প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে জানান, মন্দিরের প্রকৃতি বিবেচনা করে দরশনের সময় পরিবর্তন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তিনি বলেন, “বিগ্রহের বিশ্রামের সময় আছে… আমাদের মতে সময়সূচী পবিত্র।” দিভান আরও উল্লেখ করেন যে, গুরু ও শিষ্যের মধ্যে প্রচলিত শতবর্ষ প্রাচীন দেহরি পূজা-ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা মোটেও কাম্য নয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দরশনের সময়সূচি নিয়ে তার ব্যক্তিগত উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, “তারা এমন কিছু সময় রাখে যখন তথাকথিত ধনী ব্যক্তিরা পূজা করতে পারে।” আদালত এই বিষয়ে গঠিত কমিটি এবং উত্তর প্রদেশ সরকারের কাছে নোটিশ জারি করেছে। বিষয়টি জানুয়ারি, ২০২৬ এর প্রথম সপ্তাহে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।
কমিটি গঠন ও অন্যান্য বিতর্ক উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্ট মন্দিরটির পরিচালনার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। এর আগে, উত্তর প্রদেশ সরকার আদালতে জানিয়েছিল যে এলাহাবাদ হাই কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে এই কমিটির প্রধান করা উচিত এবং তিনি বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সনাাতন হিন্দু হলে ভক্তদের ধর্মীয় ভাবাবেগ রক্ষা হবে।
এছাড়াও, সুপ্রিম কোর্টে উত্তর প্রদেশ শ্রী বাঁকে বিহারী জি টেম্পল ট্রাস্ট অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বেশ কয়েকটি পিটিশনের শুনানি চলছে, যা মন্দিরের ব্যবস্থাপনা ও করিডোর প্রকল্পকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। পিটিশনাররা করিডোর প্রকল্পের জন্য মন্দিরের তহবিল ব্যবহার বন্ধ করারও দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট এবং এলাহাবাদ হাই কোর্ট উভয়েই শ্রী বাঁকে বিহারী মন্দির করিডোর প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকারের পরিকল্পনাকে অনুমোদন দিলেও, হাই কোর্ট বিগ্রহের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ২৬২.৫০ কোটি টাকা করিডোর নির্মাণে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিল। হাই কোর্ট স্পষ্ট করেছিল যে, সরকার ধর্মনিরপেক্ষ কার্যকলাপের জন্য তাদের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। উচ্চ আদালত বলেছিল, ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য এবং সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদ মেনে সরকারের কাজ করা উচিত।



