সুপ্রিমকোর্ট

পথকুকুর দমনে কড়া দিল্লি পুরসভা; হস্তক্ষেপ করতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, পরবর্তী শুনানি জানুয়ারিতে

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পথকুকুরের ক্রমবর্ধমান উপদ্রব এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলমান মামলাটি বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD) কর্তৃক প্রণীত কুকুর পরিচালনার নতুন নিয়মের ওপর স্থগিতাদেশ দিতে বা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

ঘটনার সূত্রপাত

গত ২৮ জুলাই ২০২৫-এর একটি সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Suo Motu) এই মামলাটি গ্রহণ করে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতে প্রতিদিন প্রায় ২০,০০০ মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছেন, যার মধ্যে শুধু দিল্লিতেই সংখ্যাটি প্রায় ২,০০০। বিশেষ করে শিশুদের ওপর আক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় আদালত জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়।

আদালতের কড়া অবস্থান ও মানবিকতার প্রশ্ন

শুনানির এক পর্যায়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি দেন যে, দিল্লি পুরসভার নতুন নিয়মগুলো অত্যন্ত ‘অমানবিক’। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকা সত্ত্বেও কুকুরগুলোকে তাদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এর জবাবে বিচারপতিরা অত্যন্ত শান্তভাবে জানান যে, পরবর্তী শুনানিতে আদালত কিছু ভিডিও প্রদর্শন করবে। আদালতের উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, আসল ‘মানবিক আচরণ’ বলতে কী বোঝায়। অর্থাৎ, প্রাণীর অধিকারের পাশাপাশি মানুষের—বিশেষ করে অসহায় শিশুদের—নিরাপত্তার অধিকারও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, আদালত সেই বার্তাই দিতে চেয়েছে।

পূর্ববর্তী নির্দেশনাবলী

গত ৭ নভেম্বর আদালত এক অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে জানিয়েছিল যে:

  • স্কুল, হাসপাতাল ও রেলস্টেশনের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে কুকুরদের সরিয়ে নিতে হবে।

  • টিকা দেওয়ার পর কুকুরদের নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে রাখতে হবে।

  • একবার সরিয়ে নেওয়া কুকুরদের পুনরায় ওই নির্দিষ্ট পাবলিক এলাকায় ছাড়া যাবে না।

বর্তমান পরিস্থিতি

আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ডিসেম্বরে কার্যকর হতে চলা MCD-এর নিয়মগুলোতে তারা এখনই বাধা দেবে না। বরং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্য সচিবদের হাজির হয়ে এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ৭ জানুয়ারি ২০২৬ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, সুপ্রিম কোর্ট এখন প্রাণী কল্যাণ এবং জননিরাপত্তার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। আগামী বছরের শুরুতেই এই বিতর্কিত বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো দিকনির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button