খবরাখবর

ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে এখন থেকে দিতে হবে কোর্ট ফি: সাফ জানাল গুজরাট হাইকোর্ট

ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বা উচ্ছেদ মামলা লড়তে গিয়ে এখন থেকে আর ‘কোর্ট ফি’ এড়ানো যাবে না। সম্প্রতি এক ঐতিহাসিক রায়ে গুজরাট হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্যের ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালে (State Waqf Tribunal) আবেদন জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ফি প্রদান করা বাধ্যতামূলক। ‘সুন্নি মুসলিম ইদগাহ মসজিদ ট্রাস্ট বনাম হার্দিক সীতারাম প্যাটেল’ এবং আরও প্রায় ১৫০টি পিটিশনের শুনানির পর এই নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

বিতর্কের মূলে কী ছিল?

গুজরাট ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালে মূলত ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ এবং সম্পত্তির অধিকার সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল যে, ওয়াকফ আইন ১৯৯৫-এ ‘আবেদন’ (Application) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, ‘মামলা’ বা ‘স্যুট’ (Suit) নয়। এই যুক্তিতে বিভিন্ন ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান দাবি করেছিল যে, তাদের ক্ষেত্রে গুজরাট কোর্ট ফি অ্যাক্ট ২০০৪ প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয় এবং তারা ফি দেওয়া থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

জাস্টিস জে. সি. দোষি-এর বেঞ্চ এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন। আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণগুলো হলো:

  • মামলার প্রকৃতি: আবেদনপত্রের নাম ‘অ্যাপ্লিকেশন’ হলেও তার প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য আসলে একটি সিভিল স্যুটের মতোই। যেহেতু এখানে দুই পক্ষের অধিকার ও বাধ্যবাধকতা বিচার বিভাগীয়ভাবে নির্ধারিত হয়, তাই একে সাধারণ দেওয়ানি মামলার বাইরে রাখা যায় না।

  • সিভিল কোর্টের মর্যাদা: ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালকে একটি ‘সিভিল কোর্ট’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং এটি সিভিল প্রসিডিউর কোড (CPC) অনুসরণ করে। ফলে এখানে মামলার মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিতে যথাযথ কোর্ট ফি দিতেই হবে।

  • বিশেষ কোনো ছাড় নয়: আদালত সাফ জানিয়েছে, কোনো বিশেষ প্রতিষ্ঠান বা ধর্মের ভিত্তিতে ‘ব্ল্যাঙ্কেট একজেম্পশন’ বা সার্বিক কর ছাড় দেওয়ার কোনো বিধান আইনে নেই। যেহেতু ওয়াকফ আইনে ফি সংক্রান্ত আলাদা কোনো নিয়ম নেই, তাই সাধারণ কোর্ট ফি আইনই এখানে কার্যকর হবে।

রায়ের প্রভাব

হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে ওয়াকফ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধে ফি ছাড়াই মামলা করার দীর্ঘদিনের অভ্যাসে ইতি পড়ল। ট্রাইব্যুনাল এখন থেকে কোর্ট ফি ছাড়া আসা যেকোনো মামলা গ্রহণ করতে অস্বীকার করতে পারে বা সরাসরি খারিজ করে দিতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button