হাইকোর্ট

“আইনজীবীদের কাজে বাধা দেওয়া ঠিক নয়”: সিবিআই-এর সমন স্থগিত করে কড়া বার্তা দিল্লি হাইকোর্টের

পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে একজন আইনজীবীকে সিবিআই (CBI) কর্তৃক তলব করার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, আইনজীবীরা যদি তাঁদের মক্কেলের হয়ে কাজ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন, তবে তাঁরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই প্রেক্ষিতে আদালত সিবিআই-এর জারি করা সমনটি স্থগিত করে দিয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

আবেদনকারী আইনজীবী সচিন বাজপাই দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে জানান যে, গত ১৯ ডিসেম্বর সিবিআই তাঁকে তদন্তে হাজির হওয়ার জন্য একটি সমন পাঠিয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত একটি বেসরকারি কোম্পানি ‘লর্ড মহাবীরা সার্ভিসেস ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড’ এবং তার পরিচালকদের বিরুদ্ধে চলা একটি মামলার তদন্ত নিয়ে।

অ্যাডভোকেট বাজপাই তাঁর মক্কেলের হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর সিবিআই-কে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছিলেন, যেখানে কিছু প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য প্রদান করা হয়েছিল। এরপর ১৭ ডিসেম্বর তিনি তাঁর মক্কেলের জন্য আদালত থেকে ‘আগাম জামিন’ (Anticipatory Bail) সংগ্রহ করেন। এর ঠিক দুদিন পরেই সিবিআই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ৯৪ ও ১৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়।

দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

শনিবার এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সিবিআই-এর এই পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেন। আদালতের প্রধান পর্যবেক্ষণগুলো ছিল:

  • পেশাগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ: আদালত মন্তব্য করে, “এটা করা একদমই ঠিক হয়নি। এভাবে চললে আইনজীবীরা কাজই করতে পারবেন না।” আদালত মনে করে, একজন আইনজীবী তাঁর পেশাগত কর্তব্যের খাতিরে মক্কেলের হয়ে ই-মেইল বা যোগাযোগ করতেই পারেন, তার জন্য তাঁকে অভিযুক্তের মতো তলব করা যায় না।

  • তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলব: আদালত কেবল সমনটি স্থগিতই করেনি, বরং সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (IO) পরবর্তী শুনানিতে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। কেন একজন আইনজীবীকে এভাবে তলব করা হলো, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে ওই কর্মকর্তাকে।

আইনজীবীর যুক্তি

সচিন বাজপাই আদালতে যুক্তি দেন যে, সিবিআই-এর এই সমন আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার। এটি বিচার ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি চেষ্টা। একজন আইনজীবী যখন তাঁর মক্কেলের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন, তখন তাঁকে তদন্তের আওতায় আনা আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

দিল্লি হাইকোর্ট সমনটির ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করেছে। বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত ও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫ পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

সারসংক্ষেপ

দিল্লি হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত এটি নিশ্চিত করতে চায় যে, আইনি পরামর্শ বা মক্কেলের হয়ে যোগাযোগ করার অপরাধে কোনো আইনজীবীকে যেন কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর হেনস্থার শিকার হতে না হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button