
সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না—এই আইনি নীতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে খালাস দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ ১৩ বছর ৯ মাস কারাবাস করার পর ‘সন্দেহের সুবিধা’ (Benefit of Doubt) পেয়ে মুক্তি পেলেন অভিযুক্ত পাওয়ান কুমার।
রায়ের প্রেক্ষাপট
বিচারপতি এম. এম. সুন্দরেশ এবং বিচারপতি এন. কোটিস্বর সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ দিল্লি হাইকোর্ট ও ট্রায়াল কোর্টের পূর্ববর্তী দণ্ডাদেশ বাতিল করে এই রায় প্রদান করেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযুক্তের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও অসঙ্গতি
মামলার অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল পাওয়ান কুমার ও তার সহযোগীরা মিলে তার স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। তবে মামলার নথি ও প্রমাণাদি খতিয়ে দেখে সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু গুরুতর বৈপরীত্য খুঁজে পায়:
-
ফরেনসিক প্রমাণের অভাব: ঘটনাস্থল থেকে কেরোসিন রাখার কোনো পাত্র বা দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে কেরোসিনের গন্ধের কথা উল্লেখ থাকলেও ফরেনসিক পরীক্ষায় এর কোনো অকাট্য প্রমাণ মেলেনি।
-
সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা: অভিযুক্তের মেয়ের সাক্ষ্যকে আদালত গ্রহণযোগ্য মনে করেনি। তার বয়ানে একাধিক ব্যক্তির নাম থাকলেও অন্য অভিযুক্তরা আগেই খালাস পেয়েছিলেন, যা তার বক্তব্যকে দুর্বল করে দেয়।
-
মৃত্যুকালীন জবানবন্দি: মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ভুক্তভোগী মহিলার নিজের বয়ান। দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসকের কাছে তিনি জানিয়েছিলেন যে, রান্নাঘরে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী এই জবানবন্দিকে আদালত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানায়, “শক্তিশালী সন্দেহ কখনোই অপরাধ প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।” উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাব থাকায় নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখা আইনের দৃষ্টিতে অন্যায্য। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই আদালত পাওয়ান কুমারকে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
Case Title: Pawan Kumar Vs State NCT of Delhi Bench: Justices MM Sundresh and N Kotiswar Singh Date of Judgment: January 22, 2026



