রাজস্থানে বিজেপি সরকারকে তুলোধনা হাইকোর্টের, নিয়োগ নিয়ে জবাব তলব
নিয়োগে ‘শূন্য’ কাট-অফ! রাজস্থান হাইকোর্টের বিস্ময়, রাজ্য সরকারকে কড়া জবাবের নির্দেশ

সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য কাট-অফ নম্বর প্রায় ‘শূন্য’ নির্ধারণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই রাজস্থান হাইকোর্ট চরম বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য সংরক্ষণ প্রয়োজন হলেও মেধাকে এভাবে বিসর্জন দেওয়া যায় না। এই নজিরবিহীন কাট-অফ ব্যবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করতে রাজ্য সরকারকে তলব করেছে হাইকোর্ট।
ঘটনার সূত্রপাত: কাট-অফ যখন ০.০০৩৩
রাজস্থানের একটি সরকারি বিভাগে চতুর্থ শ্রেণির (Class-IV) কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করে এই আইনি লড়াই শুরু হয়। বিনোদ কুমার নামে এক আবেদনকারী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কিছু সংরক্ষিত শ্রেণির কাট-অফ নম্বর অবিশ্বাস্যভাবে কম রাখা হয়েছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, একটি ক্ষেত্রে কাট-অফ নম্বর ছিল মাত্র ০.০০৩৩। অর্থাৎ, প্রায় শূন্য পেয়েও অনেকে নিয়োগের যোগ্য বিবেচিত হয়েছেন।
আবেদনকারী বিনোদ কুমার নিজে পরীক্ষায় ঋণাত্মক (Negative) নম্বর পাওয়ার কারণে অযোগ্য ঘোষিত হন। তাঁর যুক্তি ছিল, যেহেতু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে কোনও ন্যূনতম যোগ্যতার মানদণ্ড (Minimum Qualifying Marks) ছিল না, তাই কেবল নেগেটিভ নম্বরের অজুহাতে তাঁকে বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি।
আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণ: ‘চমকপ্রদ ও গুরুতর’
মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি আনন্দ শর্মা এই পরিস্থিতিকে “চমকপ্রদ” এবং “গুরুতর মনোযোগের দাবি রাখে” বলে অভিহিত করেন। রাজস্থান হাইকোর্টের একক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী:
-
দক্ষতার অভাব: বিচারপতি মন্তব্য করেন, “যে ব্যক্তি প্রায় শূন্য বা ঋণাত্মক নম্বর পায়, তাকে যুক্তিসঙ্গতভাবে কোনও কাজের জন্য উপযুক্ত বলা যায় না।” সরকারি চাকরির মান ও দক্ষতা বজায় রাখা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।
-
সংরক্ষণ বনাম ন্যূনতম মান: আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত শ্রেণির সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে ন্যূনতম যোগ্যতার মান পুরোপুরি বিসর্জন দিতে হবে। প্রার্থীদের অন্তত মৌলিক দায়িত্ব পালনের মতো ন্যূনতম মেধা থাকা প্রয়োজন।
-
পরীক্ষা পদ্ধতির ত্রুটি: বেঞ্চ আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, কাট-অফ যদি শূন্যের কাছাকাছি হয়, তবে বুঝতে হবে হয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অসম্ভব কঠিন ছিল, নয়তো নিয়োগ প্রক্রিয়ার মান নিয়ন্ত্রণে বিশাল ফাঁক রয়েছে।
রাজ্য সরকারের কাছে ব্যাখ্যা তলব
বিষয়টিকে হালকাভাবে নিতে রাজি নয় রাজস্থান হাইকোর্ট। আদালত সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান সচিবকে একটি হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে। সেখানে মূলত তিনটি প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে আদালত: ১. কেন কাট-অফ নম্বর এত নিচে বা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি রাখা হয়েছিল? ২. কেন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ন্যূনতম যোগ্যতার কোনও নম্বর নির্ধারণ করা হয়নি? ৩. ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?
আদালত সতর্ক করে জানিয়েছে, রাজ্য সরকারের ব্যাখ্যা যদি সন্তোষজনক না হয়, তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় কঠোর নির্দেশ জারি করা হতে পারে।
পরবর্তী শুনানি
এই মামলার রায় সরকারি চাকরির নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজস্থান হাইকোর্ট আগামী ৯ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। এখন দেখার বিষয়, নামমাত্র কাট-অফের স্বপক্ষে রাজ্য সরকার আদালতে কী যুক্তি পেশ করে।



