
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি যে ভাষা বোঝেন, সেই ভাষাতেই তাকে গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে। অন্যথায় সেই গ্রেফতারি আইনিভাবে বৈধ হবে না—এক নজিরবিহীন রায়ে এমনটাই জানাল কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, দেশের আইন ও সংবিধানের সুরক্ষা কেবল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নয়, বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
মামলার প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি দুই নাইজেরিয়ান নাগরিককে কেন্দ্র করে। বেঙ্গালুরুর সাম্পিগেহল্লি থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছিল। পুলিশের দাবি ছিল, ওই ব্যক্তিরা শহরের সফটওয়্যার কর্মী ও কলেজ পড়ুয়াদের কাছে নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি করছিলেন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের এমডিএমএ (MDMA) ক্রিস্টাল এবং কোকেন উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন (NDPS Act) এবং ফরেনার্স অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
অভিযুক্তদের দাবি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
অভিযুক্তরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জানান, গ্রেফতারের সময় পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বা গ্রেফতারের কারণ সঠিকভাবে জানায়নি। এমনকি তাদের গ্রেফতারের পর নির্দিষ্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
মামলাটি শুনানির পর বিচারপতি এম. নাগাপ্রসন্নর একক বেঞ্চ জানায়, ভারতীয় সংবিধানের ২২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো বাধ্যতামূলক। তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা যোগ করে বলে, শুধুমাত্র কারণ জানানোই যথেষ্ট নয়; এটি এমন একটি ভাষায় জানাতে হবে যা অভিযুক্ত ব্যক্তি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন। যদি অভিযুক্তের বোধগম্য ভাষায় কারণ ব্যাখ্যা না করা হয়, তবে তা সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা
আদালত আরও জানায়, সংবিধানের এই সুরক্ষাকবচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে “ব্যক্তি” (Person) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নাগরিক ও অ-নাগরিক উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, বিদেশি নাগরিক হলেও তাকে আইনি প্রক্রিয়া ও অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
যেহেতু এই মামলায় অভিযুক্তদের তাদের নিজস্ব ভাষায় গ্রেফতারের কারণ বুঝিয়ে বলা হয়নি, তাই পুরো প্রক্রিয়াটিকে অসাংবিধানিক বলে গণ্য করেছে আদালত। এই যুক্তিতে হাইকোর্ট অভিযুক্তদের গ্রেফতার এবং পরবর্তী রিমান্ডের আদেশ বাতিল করে তাদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের কড়া বার্তা—অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার ও আইনি পদ্ধতি কঠোরভাবে মেনে চলা বাধ্যতামূলক।



