
এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ সম্প্রতি লোকগায়িকা নেহা সিং রাঠোরের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগামে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর করা কিছু বিতর্কিত টুইটকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, তদন্তে অসহযোগিতা এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ বিবেচনা করে তাঁকে গ্রেপ্তারের হাত থেকে আগাম সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়।
মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারপতির নাম
এই রায়টি দিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি ব্রিজ রাজ সিং (Justice Brij Raj Singh)। মামলাটির নাম ‘নেহা সিং রাঠোর ওরফে নেহা কুমারী বনাম উত্তরপ্রদেশ সরকার’ (Neha Singh Rathore @ Neha Kumari Vs. State Of U.P.)। গত ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ এই রায় ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পহেলগামে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৬ জন হিন্দু তীর্থযাত্রী নিহত হন। এই ঘটনার কয়েকদিন পরেই নেহা সিং রাঠোর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) কিছু মন্তব্য পোস্ট করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁর এই টুইটগুলি ছিল উসকানিমূলক এবং জাতীয় সংহতির পরিপন্থী। লখনউয়ের হজরতগঞ্জ থানায় গত ২৭ এপ্রিল, ২০২৫-এ তাঁর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৫২, ১৯৬, ১৯৭, ৩৫৩ এবং ৩০২ ধারার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৯(এ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, তাঁর টুইটগুলো সমাজে বিদ্বেষ ছড়াতে পারে এবং জনশৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
শুনানি চলাকালীন বিচারপতি ব্রিজ রাজ সিং উল্লেখ করেন, এফআইআর দায়ের হওয়ার পর সাত মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও নেহা সিং রাঠোর তদন্তে কোনো সহযোগিতা করেননি। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, তিনি বারবার নিজের ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন এবং তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। আদালত আরও জানায়, এর আগে সুপ্রিম কোর্টও এফআইআর বাতিল করতে অস্বীকার করেছিল এবং নেহা সিং রাঠোরকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, চার্জ গঠনের সময়েই তিনি তাঁর আইনি আপত্তিগুলি উত্থাপন করতে পারবেন।
নেহা সিং রাঠোরের আইনজীবী পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী যুক্তি দেন যে, তাঁর মক্কেলের বক্তব্য বাক স্বাধীনতার (অনুচ্ছেদ ১৯) অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি সরকারের সমালোচনা করেছিলেন মাত্র, যা রাষ্ট্রদ্রোহ নয়। কিন্তু সরকার পক্ষের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দেন যে, সংবেদনশীল সময়ে করা এই টুইটগুলি দেশের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর এবং তিনি আইনকে সম্মান জানাচ্ছেন না।
সিদ্ধান্ত
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট সিদ্ধান্ত নেয় যে, যেহেতু অভিযুক্ত তদন্তে সহযোগিতা করছেন না এবং সুপ্রিম কোর্ট আগেই এই বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, তাই এই পর্যায়ে আগাম জামিন দেওয়া সম্ভব নয়। তবে আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্ত আইনের অধীনে অন্যান্য আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।



