
সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে এলাহাবাদ হাইকোর্ট একজন বিবাহিত নারীর এবং তার নতুন লিভ-ইন পার্টনারের দায়ের করা সুরক্ষা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। আদালত এই ধরনের সম্পর্কের নৈতিকতা এবং আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বলেছে যে বিবাহ নামক পবিত্র প্রতিষ্ঠানের মৌলিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
একজন বিবাহিত নারী, যিনি তার স্বামীর সাথে বিবাহিত থাকাকালীন অন্য একজন পুরুষের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে বসবাস শুরু করেছিলেন, তিনি তার নতুন লিভ-ইন পার্টনারের সাথে সুরক্ষার আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তাদের এই সম্পর্কের কারণে তাদের পরিবার এবং অন্যান্য ব্যক্তিরা তাদের হয়রানি করতে পারে।
আদালতের কঠোর মন্তব্য
মাননীয় বিচারপতি এস. পি. কেশরওয়ানি এবং বিচারপতি আজিত সিং-এর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাটি শোনেন। আদালত আবেদনকারীদের আবেদন খারিজ করে দেন এবং বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব সম্পর্কে কঠোর মন্তব্য করেন।
আদালত স্পষ্ট করে জানায় যে, যখন একজন নারী বিবাহ নামক বন্ধনে আবদ্ধ থাকেন এবং সেই বিবাহ আইনত বাতিল (dissolve) হয়নি, তখন অন্য একজন পুরুষের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে থাকা শুধুমাত্র নৈতিকভাবে ভুল নয়, এটি সামাজিক রীতিনীতি এবং আইনের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী।
আদালত পর্যবেক্ষণ করে:
“একজন বিবাহিত মহিলার এই ধরনের লিভ-ইন সম্পর্ককে অবৈধ হিসাবে দেখা উচিত। আদালত এই ধরনের সম্পর্ককে সুরক্ষা দিতে পারে না। বিবাহ নামক পবিত্র প্রতিষ্ঠানের মৌলিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন এবং বিবাহিত অবস্থায় অন্য কারও সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা আইনি সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য নয়।”
আদালত আরও উল্লেখ করে যে, এই ধরনের লিভ-ইন সম্পর্ককে যদি আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়, তবে তা বিবাহ নামক সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করবে এবং বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে উৎসাহিত করবে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।
আইনের সীমাবদ্ধতা
হাইকোর্ট এই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে যে, যদিও ভারতের সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট) প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে লিভ-ইন সম্পর্ককে কিছু ক্ষেত্রে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে সেই স্বীকৃতি বিবাহিত অবস্থায় থাকা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আইন বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেয় এবং একে সম্মান জানাতে বাধ্য।
ফলস্বরূপ, হাইকোর্ট আবেদনকারীদের কোনো আইনি সুরক্ষা দিতে অস্বীকার করে এবং আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এই রায়টি ভারতে বিবাহ এবং লিভ-ইন সম্পর্কের আইনি সীমা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



