
চেক বাউন্স (Cheque Bounce) সংক্রান্ত মামলা অর্থাৎ নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) আইনের ১৩৮ ধারা একটি ‘আধা-ফৌজদারি’ (Quasi-Criminal) অপরাধ এবং এটি আপোষযোগ্য (Compoundable)। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। এর ফলে, ১৩৮ ধারার মামলায় যদি দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক রফা হয়, তবে আদালত সেই রায় এবং সাজা বাতিল করতে পারে।
বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের (Justice Sanjay Karol) এবং বিচারপতি বিপুল এম শাহের (Justice Vipul M Shah) ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, ১৩৮ ধারার মামলার প্রধান উদ্দেশ্য হল চেকের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা এবং পাওনা টাকা মেটানো নিশ্চিত করা। যেহেতু এটি মূলত একটি আর্থিক বিরোধ, তাই আইনের ১৪৭ ধারা অনুযায়ী এটিকে আপোষের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
একটি নির্দিষ্ট মামলার ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ওই মামলায় বীরেন্দ্র সিং ডংওয়াল নামে এক ব্যক্তিকে ১৩৮ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে নিম্ন আদালত ছয় মাসের সাধারণ জেল ও ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টও সেই সাজা বহাল রাখে।
এরপর বীরেন্দ্র সিং সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন এবং সেখানে অভিযোগকারী মঞ্জু আগরওয়ালের সঙ্গে রফা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আদালতের সামনে দুই পক্ষ ৬,৬৫,০০০ টাকায় চূড়ান্ত রফাসূত্রে পৌঁছায়। অভিযোগকারীও এই রফায় আপত্তি জানাননি।
সুপ্রিম কোর্ট তখন জানিয়ে দেয় যে, যেহেতু দুই পক্ষের মধ্যে আপোষ হয়ে গিয়েছে, তাই এই মামলায় বীরেন্দ্র সিং ডংওয়ালের বিরুদ্ধে জারি হওয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় এবং সাজা বাতিল করা হলো। আদালত তাকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
তবে এই ধরনের মামলায় রফা হলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম বা গাইডলাইন মানতে হয়। আপিলের একেবারে শেষ পর্যায়ে, অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টে যখন আপোষ করা হয়, তখন চেকের মোট অঙ্কের ১০ শতাংশ জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদালতের কাছে জমা করতে হয়। এই নিয়ম মেনে সুপ্রিম কোর্ট বীরেন্দ্র সিংকে চেকের মোট অঙ্কের ১০ শতাংশ, অর্থাৎ ১,১৩,৭৮৩ টাকা চার সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস কমিটির কাছে জমা করার নির্দেশ দিয়েছে। এই রায়ের ফলে চেক বাউন্স মামলার নিষ্পত্তি আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



