
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য (ডিগ্রি) প্রকাশ করার দাবি সংক্রান্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ আপিলের শুনানি হবে বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে। প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তুষার রাও গেডেলার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলাগুলির শুনানির জন্য প্রস্তুত।
এই চারটি আপিল মূলত একক বিচারপতির একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা হয়েছে, যেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডিগ্রির তথ্য প্রকাশ করার জন্য কেন্দ্রীয় তথ্য কমিশনের (CIC) নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছিলেন।
আরটিআই আবেদনকারী নীরজ, আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং এবং অ্যাডভোকেট মহম্মদ ইরশাদ এই আপিলগুলি দায়ের করেছেন।
এর আগে একক বিচারপতি শচীন দত্ত একটি রায়ে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির শিক্ষাগত রেকর্ড প্রকাশ করার জন্য CIC-এর নির্দেশ আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর স্পষ্ট মত ছিল যে, আরটিআই আইনটি আনা হয়েছিল প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর জন্য, ‘চাঞ্চল্য সৃষ্টির খোরাক’ জোগানোর জন্য নয়। আদালত সতর্ক করে বলেছিল যে ব্যক্তিগত আক্রোশ বা প্রচারের উদ্দেশ্যে যেন এই আইনের অপব্যবহার না হয়।
বিচারপতি দত্ত তাঁর রায়ে আরও বলেন, মার্কশিট, পরীক্ষার ফল এবং ডিগ্রি সার্টিফিকেট সহ সরকারি আধিকারিকদের সমস্ত শিক্ষাগত নথিই ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ হিসেবে গণ্য হয় এবং আরটিআই আইনের ধারা ৮(১)(জে) অনুযায়ী তা সুরক্ষিত। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করে যে দিল্লি ইউনিভার্সিটি এবং সিবিএসই-এর মতো সংস্থাগুলি তাদের শিক্ষার্থীদের রেকর্ড গোপনীয়তার দায়িত্বে (fiduciary capacity) রাখে এবং এই তথ্য তৃতীয় কোনো পক্ষকে প্রকাশ করার নিয়ম নেই।
বিচারপতি দত্তের মতে, শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রকাশের প্রয়োজন তখনই হয়, যখন কোনো নির্দিষ্ট পদে থাকার জন্য তা বিধিবদ্ধভাবে বাধ্যতামূলক। অন্যথায়, আরটিআই আইনের অধীনে জনস্বার্থের মানদণ্ড পূরণ হয় না। হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, কেবল কৌতূহল বা উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই ধরনের অনুরোধ করা হলে তা ‘আর্জিগুলির দরজা খুলে দিতে পারে’, যা আইনের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
এই শুনানিতেই ডিভিশন বেঞ্চ স্থির করবেন, একক বিচারপতির রায় বহাল থাকবে, নাকি প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডিগ্রির তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে।



