
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান (rejection of bail application) হওয়া মানেই হেবিয়াস কর্পাস (habeas corpus) আবেদন করার অধিকার জন্মায় না। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একটি আদেশ বাতিল করে দিয়েছে। হাইকোর্ট প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে হেবিয়াস কর্পাস পিটিশনের ভিত্তিতে মুক্তি দিয়েছিল, যা সুপ্রিম কোর্ট ভুল বলে আখ্যায়িত করেছে।
এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগ ছিল, যা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ এবং ১২০-বি ধারার অধীনে পড়ে। অভিযুক্তের জামিনের আবেদন বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট এবং দায়রা আদালত উভয়ই প্রত্যাখ্যান করেছিল।
এরপর তিনি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করেন। হাইকোর্ট তার আবেদনে সাড়া দিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে।
সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে পূর্বের বেশ কয়েকটি নজিরবিহীন রায়, যেমন – সৌরভ কুমার বনাম উত্তরপ্রদেশ রাজ্য (2015) এবং মনোজ বনাম মধ্যপ্রদেশ রাজ্য (2022) – উল্লেখ করে। এই রায়গুলিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে বলেছিল যে, যখন একজন ব্যক্তিকে উপযুক্ত আদালতের আদেশ অনুসারে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়, তখন হেবিয়াস কর্পাস আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। হেবিয়াস কর্পাস শুধুমাত্র তখনই প্রযোজ্য যখন কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই আটক রাখা হয়।
আদালত এই বিষয়ে জোর দিয়েছিল যে, একজন অভিযুক্ত ব্যক্তির জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া মানে এই নয় যে তাকে অবৈধভাবে আটক রাখা হয়েছে। জামিন একটি আইনগত প্রক্রিয়া এবং এর প্রত্যাখ্যানও আইনসম্মত।
যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি মনে করেন যে তার জামিনের আবেদন ভুলভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, তাহলে তার উচিত হবে উপযুক্ত আইনি প্রতিকার (যেমন – উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করা) গ্রহণ করা, হেবিয়াস কর্পাস আবেদন নয়। হেবিয়াস কর্পাস কেবলমাত্র বেআইনি আটকের বিরুদ্ধে একটি প্রতিকার।
সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের সমালোচনা করে বলেছে যে, হাইকোর্ট হেবিয়াস কর্পাসের সুযোগকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে এবং এর পরিধিকে প্রসারিত করেছে। হাইকোর্ট এমন পরিস্থিতিতে হেবিয়াস কর্পাস প্রয়োগ করেছে যেখানে একজন ব্যক্তি আইনসম্মত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে ছিলেন। এই ধরনের পদক্ষেপ আইন ব্যবস্থার মৌলিক নীতিগুলির পরিপন্থী।
এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট পুনরায় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের বিচার ব্যবস্থায় প্রতিটি আইনি প্রতিকারের নির্দিষ্ট পরিধি এবং শর্ত রয়েছে। জামিন প্রত্যাখ্যানের মতো বিষয়গুলিকে হেবিয়াস কর্পাসের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না, কারণ এটি হেবিয়াস কর্পাসের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
তাই, সুপ্রিম কোর্ট মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে এবং তার আইনসম্মত জামিনের আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।



