খবরাখবর

“মানবিকতার জন্য আইন নমনীয় হওয়া চাই”: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভারতে ফিরছেন নির্বাসিত অন্তঃসত্ত্বা বাংলাদেশী মহিলা ও তাঁর ছেলে

এক নজিরবিহীন মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে, অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার একজন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালী খাতুন (Sunali Khatun) এবং তাঁর আট বছরের ছেলেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্মত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট মানবিকতার ভিত্তিতে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার ফলেই কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জিমালিয়া বাগচী-এর বেঞ্চ মন্তব্য করে, “এইসব এমন মামলা, যেখানে মানবিকতার জন্য আইনকে নমনীয় হতে হয়।”

মামলার প্রেক্ষাপট ও নির্বাসন

সোনালী খাতুন, যিনি এক সময় তাঁর স্বামী ও অন্যান্যদের সঙ্গে দিল্লির রোহিনী এলাকায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতেন, তাঁকে চলতি বছরের প্রথম দিকে তাঁর আট বছরের ছেলের সঙ্গে বাংলাদেশে নির্বাসিত করা হয়। বৈধ পরিচয়পত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সরকার তাঁকে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে নির্বাসিত করার পক্ষে ছিল। যদিও এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট ছয়জন নির্বাসিত ব্যক্তিকে (সোনালী ও তাঁর স্বামী সহ) ফিরিয়ে এনে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকার হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে এসএলপি (Special Leave Petition) দাখিল করে।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ

সুপ্রিম কোর্ট মূল মামলার আইনি জটিলতায় না গিয়ে শুধুমাত্র মানবিকতার ভিত্তিতে এই বিষয়ে মনোযোগ দেয়। বিচারপতিরা প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং সঞ্জয় হেগড়ে-এর অনুরোধে এই বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, “মানবিকতার কারণে” সোনালী খাতুন এবং তাঁর ছেলেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে, তবে তাঁদের উপযুক্ত নজরদারির অধীনে রাখা হবে।

আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্রের এই প্রতিশ্রুতি লিপিবদ্ধ করে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ জারি করে। আদালতের নির্দেশে বলা হয়:

১. গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে থাকা সুনালীকে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে। ২. পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার প্রধান স্বাস্থ্য আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিনি যেন বিনামূল্যে প্রসব সংক্রান্ত সুবিধা সহ সমস্ত চিকিৎসা পরিষেবা সুনালীকে প্রদান করেন। ৩. সোনালীকে তাঁর আত্মীয়দের কাছে বীরভূম জেলায় অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। ৪. তাঁর আট বছরের ছেলেকেও সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, এই আদেশ শুধুমাত্র সোনালী এবং তাঁর সন্তানের মানবিক ত্রাণ সংক্রান্ত। এই রায় মূল মামলায় (ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া বনাম ভোদু শেখ) কেন্দ্রীয় সরকারের আইনি অবস্থানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এই মামলাটি প্রমাণ করে যে, জটিল আইনি পরিস্থিতিতেও বিচার বিভাগ মানবিকতার চূড়ান্ত গুরুত্ব দিতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button