অস্থায়ী নারী কর্মীদেরও দিতে হবে মাতৃত্বকালীন ছুটি, ছোট বিরতি কোনো বাধা নয়: ঐতিহাসিক রায় বোম্বে হাইকোর্টের

দেশের শ্রমজীবী নারীদের অধিকার রক্ষায় এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করল বোম্বে হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো নারী কর্মী যদি অস্থায়ী বা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতেও কাজ করেন, তবুও তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটির (Maternity Leave) পূর্ণ সুবিধা পাবেন। নিয়োগকর্তারা যদি কেবল ‘টেকনিক্যাল ব্রেক’ বা যান্ত্রিক বিরতির অজুহাত দেখিয়ে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চান, তবে তা আইনত অবৈধ বলে গণ্য হবে।
মামলার বিশদ ও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ: বোম্বে হাইকোর্টের কোলাপুর বেঞ্চের বিচারপতি মকরন্দ এস. কর্ণিক (Justice Makarand S. Karnik) এবং বিচারপতি অজিত বি. কাদেথানকর (Justice Ajit B. Kadethankar)-এর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেন। মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, অনেক সময় অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে ১-২ দিনের ছোট বিরতি দেওয়া হয় যাতে তাদের স্থায়ীকরণের দাবি দুর্বল থাকে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই ধরণের ‘টেকনিক্যাল ব্রেক’ থাকলেও যদি ওই নারী কর্মী কার্যত অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে থাকেন, তবে তাঁর মাতৃত্বকালীন সুবিধা আটকানো যাবে না।
মা ও শিশুর কল্যাণের ওপর জোর: আদালত এই রায়ে ‘মাতৃত্বকালীন সুবিধা আইন, ১৯৬১’ (Maternity Benefit Act, 1961)-এর ৫ নম্বর ধারার উল্লেখ করেছে। বিচারপতিরা জানান, এই আইনটি তৈরি করা হয়েছে মা ও নবজাতকের পরম কল্যাণ এবং সুস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে। একজন নারী স্থায়ী পদে নেই বলে তাঁকে বা তাঁর সন্তানকে এই সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করা অমানবিক এবং আইনের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী।
আদালতের নির্দেশ: মামলাকারী ওই নারী কর্মীর পক্ষে রায় দিয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তাঁর মাতৃত্বকালীন ছুটি মঞ্জুর করতে হবে এবং ছুটির সময়কালীন প্রাপ্য বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে। আদালত কঠোর ভাষায় জানিয়েছে, কাজের ধরণ যেমনই হোক, মাতৃত্বকালীন সময়ে শারীরিক ও আর্থিক নিরাপত্তা পাওয়া প্রতিটি কর্মরত নারীর আইনি ও মৌলিক অধিকার।
এই রায়ের ফলে ভারতের হাজার হাজার অস্থায়ী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক নারী কর্মীদের মাতৃত্বকালীন অধিকার সুরক্ষিত হলো। এটি কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



