প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্টের এআই কমিটি পুনর্গঠন: বিচার ব্যবস্থায় আধুনিকতার ছোঁয়া

পটভূমি ও উদ্দেশ্য
ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence – AI) কমিটি পুনর্গঠন করেছেন। ভারতের বিচার ব্যবস্থায় প্রযুক্তি গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও দ্রুত করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুনর্গঠিত এই কমিটি সুপ্রিম কোর্ট এবং অধীনস্থ আদালতগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জামগুলির গ্রহণ, উন্নয়ন এবং দায়িত্বশীল স্থাপনকে তদারকি ও পরিচালিত করবে।
সুপ্রিম কোর্টের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই কমিটির মূল লক্ষ্য হলো: বিচার প্রদান ব্যবস্থায় দক্ষতা (efficiency), সহজলভ্যতা (accessibility) এবং স্বচ্ছতা (transparency) বৃদ্ধি করা।
পুনর্গঠিত কমিটির নেতৃত্ব ও সদস্যবৃন্দ
এই নতুন এআই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পি. এস. নরসিমা (Justice P. S. Narasimha) — তিনি কমিটির চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্যানেলে বিভিন্ন হাইকোর্টের বরিষ্ঠ বিচারপতি এবং প্রধান বিচারপতিরা অন্তর্ভুক্ত আছেন, যারা বিচারিক ও প্রযুক্তিগত উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক জ্ঞান রাখেন।
কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা হলেন:
-
বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবা, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি
-
বিচারপতি রাজা বিজয়ারাঘবন ভি., কেরালা হাইকোর্টের বিচারপতি
-
বিচারপতি অনূপ চিৎকারা, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারপতি
-
বিচারপতি সুরজ গোবিন্দরাজ, কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচারপতি
এছাড়াও, কমিটির প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মসৃণ সমন্বয় নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার (প্রযুক্তি) অনুপম পাত্রকে সদস্য-সচিব এবং আহ্বায়ক (Convenor) করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের মন্তব্যের নির্যাস ও কমিটির দৃষ্টিভঙ্গি
যদিও প্রকাশিত সংবাদটিতে প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্তের সরাসরি কোনো উদ্ধৃতি নেই, তবে এই উদ্যোগ এবং তার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক মন্তব্য থেকে বিচার ব্যবস্থায় তাঁর প্রযুক্তিকরণ সংক্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গির নির্যাস স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ভারতীয় বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সেখানে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির মূল নির্যাসগুলি হলো:
১. আধুনিক প্রযুক্তির গুরুত্ব: তিনি মনে করেন যে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং বিচার প্রক্রিয়াকে সহজ করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অপরিহার্য। এটি আইনি প্রক্রিয়াগুলিকে সুসংগঠিত করতে এবং বিচারকদের গবেষণায় সহায়তা করে মামলার সময় কমাতে সাহায্য করবে। ২. নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার: প্রধান বিচারপতি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বদা নৈতিকতা বজায় রাখার উপর জোর দেন। কমিটির দৃষ্টিভঙ্গিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য একটি দৃঢ় কাঠামো তৈরি করতে হবে। ৩. বিচারের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি: প্রযুক্তি ব্যবহারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিচার প্রক্রিয়াকে আরও সহজলভ্য করা। এর মধ্যে রয়েছে ব্যবহারকারী-বান্ধব ডিজিটাল ইন্টারফেস, মামলা-সংক্রান্ত তথ্যের রিয়েল-টাইম আপডেট এবং বহুভাষিক এআই সরঞ্জাম তৈরি করা। ৪. স্বচ্ছতা ও ব্যাকলগ হ্রাস: মামলার তালিকাভুক্তি (case listing), ট্র্যাকিং (tracking) এবং ব্যবস্থাপনায় এআই সিস্টেম তদারকি করে বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার ক্রমবর্ধমান ব্যাকলগ (backlog) বা স্তূপীকৃত মামলা কমানো সম্ভব হবে।
সংক্ষেপে, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের এই পদক্ষেপ একটি আধুনিক, দক্ষ এবং সকলের জন্য সহজলভ্য বিচার ব্যবস্থা তৈরির দিকে ভারতের অগ্রণী পদক্ষেপের পরিচায়ক।


