খবরাখবর

আদালতের চক্কর নয়, সমাধানের পথ দেখাবে ‘মধ্যস্থতা’: দেশজুড়ে বিশেষ প্রচার অভিযানে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত

ভারতে মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রতা এবং ক্রমবর্ধমান খরচ কমাতে ‘মধ্যস্থতা’ বা ‘মিডিয়েশন’ (Mediation)-কে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত। গোয়ায় আয়োজিত ‘মিডিয়েশন অ্যাওয়ারনেস’ বা মধ্যস্থতা সচেতনতা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এই পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তার কথা ব্যাখ্যা করেন।

মধ্যস্থতা কী ও এর সুবিধা: সাধারণত আইনি লড়াই মানেই দীর্ঘ সময়, প্রচুর অর্থ ব্যয় এবং মানসিক টানাপোড়েন। কিন্তু ‘মধ্যস্থতা’ হলো এমন একটি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি, যেখানে আদালতের বাইরে উভয় পক্ষ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে। প্রধান বিচারপতি জানান, এই প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষের ওপর রায় চাপিয়ে দেওয়া হয় না। বরং নিরপেক্ষ এক মধ্যস্থতাকারীর উপস্থিতিতে দুই পক্ষ নিজেদের সম্মতিতে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।

কেন এটি ‘জয়-জয়’ পরিস্থিতি? প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের মতে, মধ্যস্থতা হলো উভয়ের জন্যই সাফল্যের সূত্র বা ‘উইন-উইন’ (Win-Win) পরিস্থিতি। কেন তিনি এমনটা বললেন?

  • খরচ-সাশ্রয়ী: আদালতে বছরের পর বছর মামলা চললে যে বিপুল পরিমাণ আইনি খরচ হয়, মধ্যস্থতার মাধ্যমে তা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

  • দ্রুত সমাধান: এটি মামলা নিষ্পত্তির একটি ত্বরিত পদ্ধতি, ফলে সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হয় না।

  • সম্পর্ক রক্ষা: আদালতের রায়ে এক পক্ষ জেতে ও অন্য পক্ষ হারে, যার ফলে তিক্ততা বাড়ে। কিন্তু মধ্যস্থতায় সমঝোতা হয় বলে দুই পক্ষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে।

‘মেডিয়েশন ফর নেশন’ উদ্যোগ: দেশব্যাপী মধ্যস্থতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে ‘মেডিয়েশন ফর নেশন’ (Mediation for Nation) নামে একটি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত একটি পদযাত্রায় (Awareness Walk) প্রধান বিচারপতি নিজে অংশ নেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের মধ্যে এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে পারলে বিচারব্যবস্থার ওপর থেকে মামলার বোঝা কমবে এবং নাগরিকেরা দ্রুত ও সম্মানজনকভাবে ন্যায়বিচার পাবেন।

উপসংহার: প্রধান বিচারপতির এই বার্তা স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান সময়ে বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে মধ্যস্থতার কোনো বিকল্প নেই। এটি কেবল একটি আইনি পদ্ধতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক উন্নতির জন্য একটি সামাজিক সংস্কার। আদালতের চক্কর না কেটে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মিটিয়ে ফেলাই হবে আগামীর পথ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button