“অসুখী হওয়া বা কান্না নিষ্ঠুরতার প্রমাণ নয়”: আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় খালাস দিল বম্বে হাইকোর্ট

বম্বে হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলেছে যে, শুধুমাত্র ‘অসুখী হওয়া’ বা ‘কান্না’ নিষ্ঠুরতার (Cruelty) প্রমাণ নয়। আদালত আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ১৯৯৮ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়া এক ব্যক্তিকে খালাস করে দিয়েছে। হাইকোর্ট বলেছে, নিষ্ঠুরতার অভিযোগকে অবশ্যই সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
বিচারপতি এম. এম. সাথায়ে এই রায় দিয়েছেন। আদালত দেখেছে যে, প্রসিকিউশনের প্রমাণগুলি ছিল অস্পষ্ট এবং স্বামীর আচরণের সঙ্গে স্ত্রীর আত্মহত্যার কোনো সরাসরি যোগসূত্র ছিল না।
মামলার পটভূমি
মামলাটি ছিল রেখা নামের এক মহিলার মৃত্যু নিয়ে, যিনি ১৯৯৭ সালের মে মাসে আপিলকারী রামপ্রকাশের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের মাত্র ছয় মাস পরে, ১৯৯৭ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করেন এবং পরে চার দিন পর তার মৃতদেহ পুণের একটি নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
রেখার বাবা তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও সেলাই মেশিনের জন্য হয়রানির অভিযোগ দায়ের করেন। সেশনস কোর্ট স্বামীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা (IPC 306) এবং নিষ্ঠুরতার (IPC 498A) দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
হাইকোর্ট এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য নিম্ন আদালতের রায় বাতিল করে দিয়েছে:
- অনির্দিষ্ট অভিযোগ: মৃতার বাবা-মা উভয়েই আদালতে বলেছেন যে রেখা প্রায়ই ‘অসুখী’ থাকতেন এবং বাড়িতে এসে কাঁদতেন। কিন্তু তারা হয়রানির কোনো সুনির্দিষ্ট ঘটনা, তারিখ বা তীব্রতার কথা উল্লেখ করতে পারেননি।
- ক্রূরতার অভাব: আদালত মনে করে, IPC 498A ধারায় যে ধরনের শারীরিক বা মানসিক হয়রানির কথা বলা হয়েছে, তা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ ছিল না। সাধারণভাবে অসুখী জীবন কাটানো আইনিভাবে নিষ্ঠুরতার সংজ্ঞা পূরণ করে না।
- প্ররোচনার অভাব: আত্মহত্যায় প্ররোচনার জন্য এমন একটি সরাসরি বা সক্রিয় কাজ প্রয়োজন যা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেবে। এই মামলায় স্বামীর এমন কোনো প্ররোচনামূলক কাজ, ঝগড়া বা পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রমাণ মেলেনি।
- স্বামীর আচরণ: রেখা নিখোঁজ হওয়ার পর স্বামী দ্রুত থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে রেখা তার গয়না রেখে গেছেন। আদালত মনে করে, এই আচরণ আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিপ্রায়ের পরিপন্থী।
- সাক্ষ্য নিয়ে সন্দেহ: মৃতার বাবা-মা প্রথমে পুলিশকে হয়রানির কথা জানাননি। এছাড়া, সেলাই মেশিন উদ্ধারের বিষয়ে স্বাধীন সাক্ষীও পরে তাদের বক্তব্য থেকে সরে যান, যা প্রসিকিউশনের গল্পকে দুর্বল করে দেয়।
হাইকোর্ট সিদ্ধান্তে আসে যে, প্রসিকিউশন বেআইনি দাবি বা আইনি নিষ্ঠুরতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আদালত রামপ্রকাশকে খালাস দেয়।



