
ভারতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সাধারণত যে কঠোর উপস্থিতির (Attendance) নিয়ম, যেমন ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, তা প্রায়শই শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ সৃষ্টি করে। একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এই বাধ্যতামূলক উপস্থিতির হার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই প্রতিবেদনটি যুক্তি দেয় যে এই নিয়ম কীভাবে শিক্ষার পরিবেশকে গঠনমূলক করার পরিবর্তে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে এবং এটি কীভাবে আজকের আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অপ্রাসঙ্গিক।
প্রতিবেদন অনুসারে, এই কঠোর নিয়মটি মূলত একটি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে, যা শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর প্রকৃত শেখার আগ্রহের পরিবর্তে দৈহিক উপস্থিতিকে প্রাধান্য দেয়। অনেক সময়, গুরুতর অসুস্থতা, পারিবারিক জরুরি অবস্থা অথবা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত হতে পারে না। তবুও, তারা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ, যেমন পরীক্ষা দিতে না পারার ভয় বা কম নম্বরের আশঙ্কায়, অসুস্থতা সত্ত্বেও কলেজে যেতে বাধ্য হয়। এতে তাদের আরোগ্য বা সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং উদ্বেগের মাত্রা আরও বাড়ে।
বিশ্লেষণটিতে বলা হয়েছে, প্রায় সাত দশক আগে তৈরি হওয়া এই ব্যবস্থা আজকের ডিজিটাল এবং মানসিক স্বাস্থ্য-সচেতন যুগে মানানসই নয়। বর্তমানে যেখানে জ্ঞান অর্জনের জন্য একাধিক অনলাইন রিসোর্স এবং হাইব্রিড শিক্ষার সুযোগ রয়েছে, সেখানে কেবল ক্লাসে উপস্থিতির সংখ্যা গোনা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে।
এই প্রসঙ্গে, দিল্লি হাইকোর্টের একটি যুগান্তকারী রায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আদালত, সুশান্ত রোহিলা-এর মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাগুলির উল্লেখ করে, নির্দেশ দিয়েছে যে শুধুমাত্র উপস্থিতির ঘাটতির কারণে কোনো আইন কলেজের ছাত্রকে পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া যাবে না। আদালত বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়াকে (BCI) অবিলম্বে উপস্থিতির নিয়মাবলী পর্যালোচনা করে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি বিবেচনায় নিয়ে নতুন নীতি কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।
পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিবেদনটি পরামর্শ দেয় যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির উচিত শুধুমাত্র উপস্থিতির হারের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, অ্যাসাইনমেন্টে অংশগ্রহণ, অনলাইন পোর্টালে সক্রিয়তা এবং প্রজেক্টের গুণমানের ওপর জোর দেওয়া। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই একটি নমনীয়, মানবিক এবং ফলাফল-ভিত্তিক উপস্থিতি নীতি তৈরি করতে হবে। এমন নীতি প্রণয়ন করা উচিত যা শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে উৎসাহিত করবে, ভয় দেখিয়ে নয়; এবং একই সাথে অসুস্থতা বা জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখবে।
লেখকের মতে, এই কঠোর নিয়মটি ভেঙে ফেলে একটি মানবিক ও ফলাফল-ভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা অত্যাবশ্যক। এর ফলে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপমুক্ত হয়ে প্রকৃত শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দিতে পারবে এবং নীতিনির্ধারকদের দ্রুত এই নিয়মের পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।



