
সম্প্রতি ভারতের কেরালা হাইকোর্ট উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পত্তির অধিকার নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বাবা-মায়ের বিয়ের মাত্র চার মাসের মাথায় কোনো সন্তানের জন্ম হলেও, সে তার পিতার সম্পত্তির সমান অংশীদার হওয়ার আইনগত অধিকার রাখে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
মামলাটি ছিল কৃশন নামের এক মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তির বিভাজন নিয়ে। কৃশনের স্ত্রী ও সন্তানরা এই সম্পত্তি ভাগ করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বিতর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল কৃশনের দ্বিতীয় সন্তান (এক কন্যা)। ওই কন্যার জন্ম হয়েছিল তার বাবা-মায়ের বিয়ের মাত্র চার মাস পরেই।
প্রাথমিকভাবে নিম্ন আদালত (চাভাক্কাদ সাব-কোর্ট) রায় দিয়েছিল যে, যেহেতু বিয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যে শিশুটির জন্ম হয়েছে, তাই বিয়ের সময় তাকে গর্ভে ধারণ করা সম্ভব ছিল না। এই যুক্তিতে আদালত মেয়েটিকে পিতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কেরালা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
গত ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে বিচারপতি সতীশ নিনান ও বিচারপতি পি. কৃষ্ণকুমারের ডিভিশন বেঞ্চ নিম্ন আদালতের সেই সিদ্ধান্তকে নাকচ করে দেন। হাইকোর্টের রায়ের মূল দিকগুলো হলো:
-
বৈধতার আইনি ধারণা: ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের ১১২ ধারা (Section 112 of Evidence Act) অনুযায়ী, বিবাহ বজায় থাকাকালীন কোনো সন্তানের জন্ম হলে আইনত তাকে ওই দম্পতির বৈধ সন্তান হিসেবেই গণ্য করা হয়। যতক্ষণ না শক্তিশালী প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মেলামেশার কোনো সুযোগই ছিল না, ততক্ষণ সন্তানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।
-
গর্ভধারণের সময়কাল: আদালত স্পষ্ট জানায়, গর্ভধারণ বিয়ের আগে হয়ে থাকলেও যদি জন্ম বিবাহের পরে হয়, তবে সন্তানকে অবৈধ বলা চলে না। আইনের দৃষ্টিতে সে তার বাবার বৈধ উত্তরসূরি।
-
প্রমাণ ও দলিল: মেয়েটির পাসপোর্ট, পেনশনের নথি এবং পরিবারের মৌখিক সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে আদালত নিশ্চিত হয় যে, মৃত ব্যক্তিই ওই তরুণীর পিতা।
সম্পত্তির চূড়ান্ত বণ্টন
আদালতের এই রায়ের ফলে মৃত কৃশনের সম্পত্তি এখন সমান ৫টি ভাগে বিভক্ত হবে। যারা এই সম্পত্তির ভাগ পাবেন তারা হলেন: ১. মৃত ব্যক্তির স্ত্রী ২. বড় সন্তান ৩. দ্বিতীয় সন্তান (যাকে আগে বঞ্চিত করা হয়েছিল) ৪. তৃতীয় সন্তান ৫. মৃত ব্যক্তির মা
মামলার নাম: সুজাতা কৃষ্ণান ও অন্যান্য বনাম রাধা মোহনদাস ও অন্যান্য।



