
ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) নিয়ে কলকাতার সল্ট লেক স্টেডিয়ামে আয়োজিত ইভেন্টে ঘটে যাওয়া ব্যাপক বিশৃঙ্খলা এবং হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলীয় নেতা এবং বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা এসআইটি (SIT) তদন্তের আবেদন দাখিল করেছেন।
১৩ ডিসেম্বর সল্ট লেক স্টেডিয়ামে মেসি উপস্থিত হওয়ার পর পরই ইভেন্টে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। মেসি মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য উপস্থিত ছিলেন এবং মূল অনুষ্ঠান ঠিকমতো সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষুব্ধ দর্শকরা চেয়ার ভাঙচুর, মাঠে বস্তু ছোড়া এবং মাঠে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
হাইকোর্টে আবেদন
শুভেন্দু অধিকারীর মূল দাবি হলো— এই ইভেন্টের সময় ঘটে যাওয়া “হিংসা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলার” প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে একটি স্বাধীন এবং অত্যন্ত গঠনমূলক তদন্ত প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, নিরাপত্তা, ভিআইপি (VIP) এলাকা ব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত ভিআইপি পাসের অনুমোদন সংক্রান্ত গাফিলতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর আবেদনে হাইকোর্টের কাছে কেন্দ্রীয় সংস্থা যেমন সিবিআই (CBI), ইডি (ED) এবং এসএফআইও (SFIO)-কে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য হলো, ইভেন্টের বিশৃঙ্খলা এবং এর পেছনে থাকা সম্ভাব্য আর্থিক বা প্রশাসনিক ভুল-ত্রুটি নিরপেক্ষভাবে উন্মোচিত করা। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক জনস্বার্থ মামলা (PIL) দাখিল করার অনুমতি দিয়েছে আদালত এবং সেগুলির একসঙ্গে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
রাজ্য সরকারের তদন্তের বিরোধিতা
শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) গঠিত তদন্ত কমিটিকে অগ্রাহ্য করে আদালত-নিয়ন্ত্রিত তদন্ত চেয়েছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য সরকার এই ইভেন্টের “অব্যবস্থাপনা” এবং ভক্তদের প্রতি “সম্মানের অভাবের” জন্য দায়ী। তাই সরকারের কমিটি দিয়ে নয়, উচ্চ আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী তদন্ত প্রয়োজন। তিনি ক্ষুব্ধ দর্শকদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া এবং রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রীর গ্রেপ্তার দাবি করে রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছেন।
বিশৃঙ্খলার কারণ
পুলিশ সূত্র ও অন্যান্য রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে মূল সমস্যা ছিল:
-
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব।
-
অতিরিক্ত ভিআইপি পাস অনুমোদন।
-
ভিআইপি এবং সাধারণ ভক্তদের জন্য অপর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা।
রাজনৈতিক চাপ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মাঝে কলকাতা হাইকোর্টের শীর্ষ পর্যায়ের শুনানিতেই নির্ধারিত হবে এই ঘটনায় কী ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



