অনলাইনে শ্যালিকাকে ‘কল গার্ল’ হিসাবে দেখিয়ে মানহানি: অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করতে নারাজ কর্ণাটক হাইকোর্ট

কর্ণাটক হাইকোর্ট বেঙ্গালুরুর এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ফৌজদারি মামলা খারিজ করতে অস্বীকার করেছে। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ— তিনি তাঁর শ্যালিকার নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে তাঁর মানহানি করেছেন।
বিচারপতি এম. আই. অরুণের বেঞ্চ অভিযুক্ত প্রমোদ শিবশঙ্করের মামলা খারিজের আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে বেঙ্গালুরুর একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকবে।
মামলার অভিযোগ: অভিযোগকারী শ্যালিকা অভিযোগ করেছেন যে, পারিবারিক বিবাদের জেরে তাঁর দুলাভাই (প্রমোদ) অনলাইনে তাকে হেনস্থা করা শুরু করেন।
- প্রমোদ তাঁর নামে একটি নকল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন।
- সেই অ্যাকাউন্টে তাঁকে “কল গার্ল” হিসেবে বর্ণনা করা হয় এবং বলা হয় তিনি “পুরুষ খুঁজছেন”।
- অন্যান্য বেনামী অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে অপমানজনক ও কুরুচিকর মন্তব্য পোস্ট করা হয়।
এই ধরনের পোস্ট প্রকাশ্যে আসার ফলে অভিযোগকারীর ব্যাপক অপমান ও মানসিক যন্ত্রণা হয়।
আদালতের সিদ্ধান্ত: অভিযোগের ভিত্তিতে নিম্ন আদালত প্রাথমিকভাবে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারা (মানহানি) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৬৬(সি), ৬৬(ডি) ও ৬৭(এ) ধারায় অভিযোগ গ্রহণ করে। এই ধারাগুলি পরিচয় চুরি, কম্পিউটার ব্যবহার করে প্রতারণামূলক ছদ্মবেশ এবং ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অশ্লীল উপাদান প্রকাশের সাথে সম্পর্কিত।
অভিযুক্ত প্রমোদ হাইকোর্টে আবেদন করে দাবি করেন যে তিনি নির্দোষ এবং এমন কোনো অ্যাকাউন্ট তৈরি করেননি। তিনি আরও যুক্তি দেন যে, অভিযোগগুলি সত্যি হলেও তা আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
তবে হাইকোর্ট তাঁর যুক্তিতে রাজি হয়নি। বিচারপতি অরুণ পর্যবেক্ষণ করেন যে, অভিযোগগুলি প্রমাণিত হলে তা “অবশ্যই মানহানিকর” বলে বিবেচিত হবে। আদালত জোর দিয়ে বলে, অন্য একজনের নামে নকল অ্যাকাউন্ট তৈরি করে এবং প্রকাশ্যে আপত্তিকর বিষয়বস্তু পোস্ট করা ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং আইটি অ্যাক্ট উভয় ধারায় শাস্তিমূলক দায় আকর্ষণ করতে পারে।
আদালত রায় দেয় যে, প্রাথমিক প্রমাণ সাপেক্ষে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অভিযোগ গঠন করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। হাইকোর্ট অভিযুক্তের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় এখন নিম্ন আদালতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলবে।
এক কথায় বলতে গেলে, সোশ্যাল মিডিয়ার আড়াল থেকে নোংরামি করে পার পাওয়া যাবে না – আইন খুব পরিষ্কার।



