‘বিষাক্ত সাপ’ মন্তব্য: মল্লিকার্জুন খার্গের বিরুদ্ধে ঘৃণাভাষণের মামলা খারিজ করল দিল্লির আদালত

সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে দিল্লির তিস হাজারি আদালত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে। ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় বিজেপি এবং আরএসএস-এর আদর্শকে ‘বিষাক্ত সাপের’ সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ উঠেছিল খার্গের বিরুদ্ধে। আদালত রায় দিয়েছে যে, এই মন্তব্যটি ঘৃণাভাষণ বা মানহানির পর্যায়ে পড়ে না, বরং এটি সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত রাজনৈতিক সমালোচনার অংশ।
অভিযোগের পটভূমি
২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল কর্নাটকের নারেগালে এক জনসভায় মল্লিকার্জুন খার্গে মন্তব্য করেছিলেন, “মি. মোদী একটি বিষাক্ত সাপের মতো। আপনি যদি বিষ পরীক্ষা করতে যান, তবে আপনার মৃত্যু হবে।”
প্রাথমিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে করা এই মন্তব্যটি বিতর্কের জন্ম দিলে খার্গে পরে স্পষ্ট করেন যে, তিনি ব্যক্তি মোদীকে নয়, বরং বিজেপি ও আরএসএস-এর আদর্শকে ইঙ্গিত করেছেন।
এরপর রবীন্দ্র গুপ্ত নামে আরএসএস-এর এক দীর্ঘদিনের সদস্য ও আইনজীবী এই মন্তব্যের জেরে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ হয়ে দিল্লির আদালতে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, এই মন্তব্যটি আপত্তিকর, মানহানিকর এবং বিজেপি ও আরএসএস-কে অপমান করে। তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ১৫৩এ (গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচার), ২৯৫এ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত), এবং ৪৯৯/৫০০ (মানহানি) সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়েরের আবেদন জানান।
আদালতের যুক্তি ও সিদ্ধান্ত
জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রীতি রাজোরিয়ার বেঞ্চ এই মামলাটির শুনানি করে। আদালত দুটি মূল দিক বিবেচনা করে:
১. মানহানির অভিযোগ (Defamation): আদালত উল্লেখ করে যে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা অনুসারে মানহানি তখনই হয়, যখন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ণ করা হয়। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, যেহেতু এই মন্তব্যটি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে করা হয়নি, এবং অভিযোগকারীও সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি (প্রধানমন্ত্রী) নন, তাই সাধারণ কোনো সংস্থার সদস্য বা সমর্থক হিসেবে ব্যক্তিগত মানহানির দাবি করা যায় না। আদালত ১৯৯৬ সালের একটি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে জানায়, কোনো রাজনৈতিক মন্তব্যে ব্যক্তিগতভাবে আঘাত পাওয়া মানহানির অপরাধ নয়।
২. ঘৃণাভাষণের অভিযোগ (Hate Speech): আদালত জানায়, ঘৃণাভাষণ সংক্রান্ত ১৫৩এ, ১৫৩বি বা ২৯৫এ ধারার অধীনে অপরাধ প্রমাণ করতে হলে বক্তব্যের সঙ্গে ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে শত্রুতা ছড়ানোর একটি প্রত্যক্ষ যোগসূত্র থাকতে হবে। খার্গের মন্তব্যটি কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তা ছিল একটি রাজনৈতিক আদর্শের সমালোচনা। আদালত এই পর্যবেক্ষণ করে যে, রাজনৈতিক বিতর্কের সময় কঠোর বা আপত্তিকর সমালোচনাও করা যেতে পারে, যদি না তা সহিংসতা উসকে দেয়।
কোনো ধারার অধীনেই মামলা পরিচালনার প্রাথমিক উপাদান (prima facie case) খুঁজে না পাওয়ায়, আদালত খার্গের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এই ব্যক্তিগত অভিযোগটি খারিজ করে দেয়।



