
ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টে একটি মামলার রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাকি থাকায় গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ জানিয়েছে, হাইকোর্টের এই বিলম্ব ‘বিচারিক বিবেককে হতবাক করেছে’।
মামলাটির নাম ‘মেসার্স মিভান স্টিলস লিমিটেড বনাম মেসার্স ভারত কোকিং কোল লিমিটেড’। এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল এবং রায় স্থগিত রাখা হয়েছিল (reserved) ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই। কিন্তু আজ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রায় দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট কোনো রায় দেয়নি।
মিভান স্টিলস লিমিটেড সংস্থাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে জানায় যে, হাইকোর্টে সওয়াল-জবাব শেষ হওয়ার পর রায় দিতে এতো দেরি করাটা সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া জীবন ও স্বাধীনতার অধিকারের লঙ্ঘন। তারা আরও উল্লেখ করে যে, রায় ঘোষণার এই অযাচিত বিলম্ব বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করে।
আবেদনকারী সংস্থাটি ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট রুলস, ২০০১-এর ১০১ নম্বর নিয়মের কথা তুলে ধরে। এই নিয়ম অনুযায়ী, সংরক্ষিত রায় সাধারণত সওয়াল-জবাব শেষের ছয় সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক। আর যদি তিন মাসের মধ্যে রায় না দেওয়া হয়, তবে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে বিবেচনার জন্য রাখতে হবে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সেই নিয়মও মানা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ্য করেছে যে, সংরক্ষিত রায় দিতে বিলম্ব সংক্রান্ত একটি বৃহত্তর বিষয় ইতিমধ্যেই তাদের বিবেচনাধীন রয়েছে, যার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৪ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে। তাই আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই বর্তমান মামলাটিও প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে যথাযথ নির্দেশ নিয়ে সেই মূল মামলার সঙ্গেই যুক্ত করা হবে।
মোটকথা, বিচার পেতে এই দীর্ঘ বিলম্বের ঘটনাটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নজরে এসেছে এবং তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।



