সুপ্রিমকোর্ট

রাতে বাতিল-ডিলে, হাহাকার যাত্রীদের — CJI সূর্যকান্ত বললেন, ‘এটা গম্ভীর বিষয়’

দেশজুড়ে বিমানযাত্রায় নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। ইন্ডিগো (IndiGo) বিমানের হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরিতে চলার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ যাত্রী। বিমানবন্দরের মেঝেতে রাত কাটানো থেকে শুরু করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারা—যাত্রীদের এই হাহাকার এবার পৌঁছে গেল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত এই পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত গম্ভীর’ বলে অভিহিত করেছেন।

দেশব্যাপী যাত্রিব্যাহত ও বিশৃঙ্খলা

বিগত কয়েক দিনে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। একদিনেই প্রায় হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হওয়ার খবর মিলেছে। বিমানবন্দরগুলিতে যাত্রীদের ভিড় উপচে পড়ছে, কিন্তু এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সঠিক তথ্য বা প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে বিমানবন্দরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছল দুর্ভোগ

এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আইনজীবী আমান বাঙ্কা সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন জমা দেন। আবেদনে দাবি করা হয়, এই বিশৃঙ্খলা কেবল একটি বাণিজ্যিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের মানবিক সংকট। আদালত যাতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে (Suo Motu) এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে এবং বিমান সংস্থার দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে, সেই আর্জি জানানো হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের পর্যবেক্ষণ

আবেদনটি গ্রহণ করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি গম্ভীর বিষয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিমানবন্দরে আটকে আছেন। আমরা জানি সরকার ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, তবে অনেক যাত্রীর শারীরিক অসুস্থতা বা জরুরি প্রয়োজন থাকতে পারে, যা উপেক্ষা করা যায় না।” প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, নাগরিকদের চলাফেরার স্বাধীনতা এবং জরুরি প্রয়োজনে পরিষেবা পাওয়া একটি মৌলিক অধিকারের পর্যায়ে পড়ে।

আবেদনের মূল দাবিসমূহ

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই আবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি তোলা হয়েছে:

  • বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এবং ডিজিসিএ (DGCA)-কে পরিস্থিতির জন্য দায়বদ্ধ করতে হবে।

  • ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীদের দ্রুত রিফান্ড, বিকল্প ভ্রমণের ব্যবস্থা এবং আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

  • ভবিষ্যতে এমন বিশৃঙ্খলা রুখতে একটি শক্তিশালী ‘প্যাসেঞ্জার প্রোটেকশন ফ্রেমওয়ার্ক’ বা যাত্রী সুরক্ষা কাঠামো গঠন করতে হবে।

কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ?

এই মামলার গুরুত্ব অপরিসীম কারণ এটি প্রমাণ করে যে বিমান পরিষেবা কেবল একটি পণ্য নয়, এটি সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা বা ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নাগরিকের অধিকার। ইন্ডিগোর এই গাফিলতি যদি আদালতে গুরুত্ব পায়, তবে আগামী দিনে রিফান্ড নীতি, যাত্রী সুরক্ষা এবং এয়ারলাইন্সগুলোর পরিষেবা প্রদানের ধরনে বড় ধরনের আইনি পরিবর্তন আসতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button