পোকসো মামলায় বিচারকের অসংবেদনশীল মন্তব্য বরদাস্ত নয়: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ
বিচারালয়ে আর চলবে না অসংবেদনশীল ভাষা; শিশু যৌন নিগ্রহ মামলায় নতুন গাইডলাইন আনছে সুপ্রিম কোর্ট

শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইন (POCSO) সংক্রান্ত মামলায় বিচারকদের শব্দচয়ন এবং দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সোমবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় বিচারকদের কোনো রকম ‘অসংবেদনশীল মন্তব্য’ বা আপত্তিজনক ভাষা বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে দ্রুত একটি ব্যাপক নির্দেশিকা (Comprehensive Guidelines) জারি করা হবে।
পুরনো রায়ের অসংবেদনশীলতা ও আদালতের হস্তক্ষেপ
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant) এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী (Justice Joymalya Bagchi)-র ডিভিশন বেঞ্চ ইলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি পুরনো রায়কে কেন্দ্র করে এই পর্যবেক্ষণ পেশ করেন। ওই মামলায় ১১ বছরের এক শিশুকন্যার ওপর যৌন হেনস্থার ঘটনায় অভিযুক্তের আচরণকে হাইকোর্ট ‘ধর্ষণের চেষ্টা নয়’ বলে অভিহিত করেছিল। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, পোশাক টানাটানি বা শ্লীলতাহানি ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে না। সুপ্রিম কোর্ট এই মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘অসংবেদনশীল’ বলে খারিজ করে দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের রায়টি স্থগিত করেছে।
কেন এই পরিবর্তন জরুরি?
সুপ্রিম কোর্ট মনে করে, বিচারকের অসংবেদনশীল ভাষা নিগৃহীত শিশু এবং তার পরিবারকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। এটি নিগৃহীতাকে পুনরায় নির্যাতনের (Re-victimization) শিকার করার সামিল। এর ফলে সমাজে লজ্জা ও বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়, যা শিশুদের বিচার চাইতে নিরুৎসাহিত করে। আদালত বলেছে, বিচারকদের এমন কোনো মন্তব্য করা উচিত নয় যাতে নিগৃহীতাকেই দোষারোপ (Victim Blaming) করা হয়।
প্রস্তাবিত গাইডলাইনের লক্ষ্য
শীর্ষ আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, পোকসো মামলার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা হবে। এর মূল লক্ষ্যসমূহ হলো: ১. বিচার প্রক্রিয়ায় নিগৃহীতা বা শিশুর প্রতি সঠিক ও মার্জিত ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত করা। ২. নিগৃহীতার সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষায় কঠোর থাকা। ৩. বিচারকদের মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে সচেতন করা।
ভবিষ্যতের প্রভাব
সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপের ফলে বিচারিক ভাষা ও রায়ের ধরনে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেবল একটি আইনি নির্দেশ নয়, বরং ভিকটিম-বান্ধব বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে একটি মানবিক পদক্ষেপ। এর ফলে নিগৃহীত শিশুরা আদালতে এসে নির্ভয়ে নিজেদের কথা বলতে পারবে এবং বিচারক কেবল আইনের মাপকাঠিতে নয়, বরং নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেও ন্যায়বিচার করবেন।



