হাইকোর্ট

‘তথ্যগতভাবে সঠিক রিপোর্ট মানহানি নয়’: সাংবাদিক নিলঞ্জনা ভৌমিকের বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করল দিল্লি হাইকোর্ট

মামলার মূল রায়

সাংবাদিক নিলঞ্জনা ভৌমিক-এর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মানহানির মামলা সম্প্রতি খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তথ্যগতভাবে সঠিক রিপোর্ট বা প্রতিবেদনকে কোনোভাবেই মানহানি বলে গণ্য করা যায় না। বিচারপতি লীনা বনসাল কৃষ্ণ পর্যবেক্ষণ করেন যে, প্রতিবেদনে যদি সঠিক তথ্য তুলে ধরা হয়, তবে অভিযোগকারীর কাছে অপ্রীতিকর মনে হলেও সেটিকে মানহানি বলা যায় না। এর মাধ্যমে নিলঞ্জনা ভৌমিক বড় স্বস্তি পেলেন।

মামলার পটভূমি

মামলাটি দায়ের করেছিলেন সাউথ এশিয়া হিউম্যান রাইটস ডকুমেন্টেশন সেন্টার (SAHRDC)-এর প্রধান রবি নায়ার। সাংবাদিক নিলঞ্জনা ভৌমিকের একটি আর্টিকেলের বিরুদ্ধে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন, যা ২০১০ সালে টাইমস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছিল। আর্টিকেলটির শিরোনাম ছিল “Accountability of India’s Nonprofits under Scrutiny”। প্রতিবেদনে ভারতে এনজিও (NGO) বা অলাভজনক সংস্থাগুলির কার্যকারিতা এবং কিছু অসঙ্গতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

রবি নায়ারের অভিযোগ ছিল, এই নিবন্ধে ঘুরিয়ে বোঝানো হয়েছে যে তিনি এবং তাঁর সংস্থা অর্থ তছরুপের সঙ্গে যুক্ত। ২০১০ সালে আর্টিকেলটি প্রকাশের কথা জানলেও, তিনি ২০১৪ সালের নভেম্বরে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি নেহাল বনসাল কৃষ্ণ এই মামলাটি খারিজ করার সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন:

  • সাংবাদিকের স্বাধীনতা: আদালত জানায়, একজন সাংবাদিক বা লেখক কীভাবে তথ্য তুলে ধরবেন, তা তাঁর লেখার দক্ষতার বিষয়। কিন্তু যখন প্রকাশিত বিষয়টি তথ্যগতভাবে সঠিক হয়, তখন অভিযোগকারী এটিকে মানহানি বলতে পারেন না।

  • অত্যধিক সংবেদনশীলতা: আদালত মন্তব্য করে যে, শুধুমাত্র পরোক্ষ ইঙ্গিত (innuendoes and insinuations) বা অনুমানের ভিত্তিতে মানহানির অভিযোগ তোলা অভিযোগকারীর ‘অত্যধিক সংবেদনশীল মানসিকতা’। একটি সঠিক প্রতিবেদনের ফলে কারও খ্যাতি এত সহজে নষ্ট হয়ে যেতে পারে না।

  • মামলা দায়েরের সময়সীমা: হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, ২০১০ সালে প্রকাশিত একটি আর্টিকেলের জন্য ২০১৪ সালে অর্থাৎ চার বছর পর মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগ জানানোর যে আইনি সময়সীমা রয়েছে, সেই সীমা এই মামলাটি বহু আগেই অতিক্রম করেছে। তাই মামলাটি সময়সীমা দ্বারা বারিত (barred by limitation)

এই সমস্ত কারণের ভিত্তিতে আদালত নিলঞ্জনা ভৌমিকের বিরুদ্ধে সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালতের এই রায় স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং সঠিক তথ্য পরিবেশনের গুরুত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button