খবরাখবর

ডিজিটাল ডিজাইনে বড় জয়: GUI-কেও ডিজাইন সুরক্ষার আওতায় আনল কলকাতা হাইকোর্ট

প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ডিজাইনের সুরক্ষায় এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো সফটওয়্যার বা ডিভাইসের গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস (GUI)-কেও এখন থেকে ‘ডিজাইন’ হিসেবে নিবন্ধন করা সম্ভব। বিচারপতি রবি কিষাণ কাপুরের একক বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পেটেন্ট ও ডিজাইন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের আগের কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন।

মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

এনইসি কর্পোরেশন (NEC Corporation), টিভিএস মোটর কোম্পানি (TVS Motor Company) এবং আবিওমেড-এর (Abiomed Inc.) মতো একাধিক নামী প্রযুক্তি সংস্থা তাদের তৈরি ডিজিটাল ইন্টারফেস বা GUI-এর নকশা নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু ভারতের ‘কন্ট্রোলার অফ পেটেন্ট অ্যান্ড ডিজাইনস’ সেই আবেদনগুলো খারিজ করে দেয়। কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, GUI কেবল সফটওয়্যার দ্বারা তৈরি কিছু চিত্র যা ডিভাইস চালু থাকলে দেখা যায়; এটি কোনো স্থায়ী ‘উৎপাদিত বস্তু’ বা ‘Article’ নয়।

তবে বিচারপতি রবি কিষাণ কাপুর এই যুক্তিকে অত্যন্ত সংকীর্ণ ব্যাখ্যা’ বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, ‘ডিজাইন অ্যাক্ট, ২০০০’ অনুযায়ী GUI-কে সরাসরি বাদ দেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই। তাই ঢালাওভাবে আবেদন বাতিল না করে প্রতিটি নকশাকে পৃথকভাবে আইনের মানদণ্ডে যাচাই করা উচিত।

GUI কেন ডিজাইনের মর্যাদা পাবে?

আদালত তার রায়ে ব্যাখ্যা করে যে, একটি GUI-তে আইকন, মেনু, লেআউট এবং বিশেষ রঙের বিন্যাস থাকে, যা ব্যবহারকারীর চোখে দৃশ্যমান এবং একটি নির্দিষ্ট নান্দনিক বৈশিষ্ট্য বহন করে। যদিও ডিজাইন নিজে কোনো বস্তু নয়, কিন্তু এটি মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার মনিটর বা গাড়ির ড্যাশবোর্ডের মতো ডিভাইসের ওপর প্রয়োগ করা হয়। এক্ষেত্রে ওই ডিভাইসটিকেই ‘সংশ্লিষ্ট বস্তু’ বা ‘Article’ হিসেবে গণ্য করতে হবে যার ওপর ডিজাইনটি প্রদর্শিত হচ্ছে।

কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৩৫০ শব্দের এই রায় ভারতের প্রযুক্তি শিল্পে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে কোনো অ্যাপ বা ডিভাইসের ইন্টারফেস কতটা সুন্দর ও ব্যবহারবান্ধব, তার ওপরই নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক সাফল্য। এই রায়ের ফলে:

  • সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি সংস্থাগুলো তাদের সৃজনশীল ইন্টারফেসের আইনি সুরক্ষা পাবে।
  • অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হুবহু একই রকম নকশা বা লেআউট নকল করতে পারবে না।
  • প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

পরিশেষে, আদালত ডিজাইন নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের আগের প্রত্যাখ্যানের আদেশগুলো বাতিল করে দিয়েছে এবং আবেদনগুলোকে পুনরায় আইনি মানদণ্ডে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পথে এই রায়কে একটি অত্যন্ত প্রগতিশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button