চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে পদপিষ্টের ঘটনা: বিচার বিভাগীয় কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে DNA-এর আবেদন খারিজ করল কর্ণাটক হাইকোর্ট

বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকের চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় কমিশনের রিপোর্টের বিরুদ্ধে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ডিএনএ এন্টারটেইনমেন্ট নেটওয়ার্কস (DNA Entertainment Networks)-এর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কর্ণাটক হাইকোর্ট। এই কমিশনের রিপোর্টে পদদলনের ঘটনার জন্য ডিএনএ এবং তাদের আধিকারিকদের আংশিকভাবে দায়ী করা হয়েছিল।
বিচারপতি ডিকে সিং এবং বিচারপতি তারা বিতস্তা গাঞ্জু-এর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০০৪ সালের ৪ঠা জুন আইপিএল-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) দলের জয়ের একদিন পরে, প্রায় ৩ লক্ষ ক্রিকেট ভক্ত প্রিয় খেলোয়াড়দের সাথে দেখা করার আশায় চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় করেছিলেন। ভিড় সামলাতে না পেরে স্টেডিয়ামের গেটে পদদলনের ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং ৫০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
রাজ্য সরকার অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্ট বিচারপতি জন মাইকেল ডি’ কুনহা-এর নেতৃত্বে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনের কাজ ছিল পদদলনের কারণ অনুসন্ধান করা এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করা।
কমিশনের রিপোর্ট ও DNA-এর যুক্তি
বিচারপতি কুনহার রিপোর্টে বলা হয় যে, ইভেন্টটির আয়োজকরা জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং উদাসীনতার কারণে এই পদদলন ঘটে। তিনি আরসিবি, ডিএনএ এবং কর্ণাটক স্টেট ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (KSCA) মতো আয়োজক সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।
কমিশনের এই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে ডিএনএ হাইকোর্টে আবেদন করে। ডিএনএ যুক্তি দেয় যে, স্টেডিয়ামের বাইরে আসা জনতাকে সঠিকভাবে সামলানোর দায়িত্ব পুলিশ এবং রাজ্য কর্তৃপক্ষের ছিল, আর তাদের ব্যর্থতার কারণেই পদদলনের ঘটনা ঘটেছে। ডিএনএ আরও অভিযোগ করে যে, রাজ্য নিজেদের দায় এড়াতে কমিশনকে ব্যবহার করে ডিএনএ-কে বলির পাঁঠা বানানোর চেষ্টা করছে। তাদের আধিকারিকদের যথাযথ শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়নি।
আদালতের সিদ্ধান্ত
রাজ্যের পক্ষে অ্যাডভোকেট জেনারেল শশী কিরণ শেট্টি পাল্টা যুক্তি দিয়ে জানান যে, কমিশনের রিপোর্ট চূড়ান্ত হওয়ার অনেক আগেই সংবাদমাধ্যমে ডিএনএ আধিকারিকদের নাম উঠে এসেছিল। তিনি আদালতকে আশ্বাস দেন যে, পদদলন সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলাগুলি কমিশনের রিপোর্টের থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং যদি ভবিষ্যতে রিপোর্টে উল্লিখিত তথ্য ব্যবহার করা হয়, তবে ডিএনএ-কে নোটিস দেওয়া হবে।
উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে হাইকোর্ট ডিএনএ-এর আবেদনটি খারিজ করে দেয়। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় কমিশনের রিপোর্ট এবং তাতে উল্লিখিত দায়বদ্ধতাগুলি অব্যাহত থাকল।



