হাইকোর্ট

ঘরোয়া নিরাপত্তায় নয়া দাওয়াই: পরিযায়ী গৃহকর্মীদের ‘পুলিশ ভেরিফিকেশন’ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব কর্ণাটক হাইকোর্টের

শহরাঞ্চলে গৃহকর্মে নিযুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই বা পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করার পক্ষে জোরালো সওয়াল করল কর্ণাটক হাইকোর্ট। আদালতের মতে, গৃহকর্তা ও শ্রমিক— উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে একটি সুসংগঠিত যাচাইকরণ ব্যবস্থা বর্তমান সময়ে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় যাচাই জরুরি

একটি মামলার শুনানি চলাকালীন কর্ণাটক হাইকোর্টের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে যে, বেঙ্গালুরুর মতো বড় শহরগুলিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিন রাজ্য থেকে এসে গৃহকর্মী বা ‘ডোমেস্টিক হেল্প’ হিসেবে কাজে যোগ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিয়োগকর্তারা তাঁদের নাম-ঠিকানা বা পূর্ববর্তী পেশার কোনো নির্ভরযোগ্য নথি ছাড়াই কাজে নিযুক্ত করছেন। হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই পরিচয়হীনতা অনেক সময় বড়সড় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি করে।

আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

আদালত তাঁর পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু মৌলিক বিষয়ের ওপর আলোকপাত করেছে:

  • তদন্তে জটিলতা নিরসন: বাড়িতে চুরি, প্রতারণা বা অন্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট গৃহকর্মীর কোনো স্পষ্ট পরিচয় পুলিশের কাছে নথিভুক্ত নেই। ফলে অপরাধীকে শনাক্ত করা বা খুঁজে বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। পুলিশ ভেরিফিকেশন থাকলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

  • শ্রমিকদের সুরক্ষা: আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভেরিফিকেশন মানেই শ্রমিকদের সন্দেহের চোখে দেখা নয়। বরং এর মাধ্যমে তাঁদের একটি আনুষ্ঠানিক পরিচয় তৈরি হবে। এতে যেমন নিয়োগকর্তার আস্থা বাড়বে, তেমনি কোনো বিবাদ হলে শ্রমিকের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।

  • সুসংগঠিত নীতি প্রণয়ন: অনেক শ্রমিক কোনো রেজিস্টার্ড এজেন্সি ছাড়াই সরাসরি ব্যক্তিগত পরিচয়ে কাজে যোগ দেন। হাইকোর্টের মতে, রাজ্য সরকারের উচিত একটি সুসংগঠিত নীতি তৈরি করা, যাতে গৃহকর্মীদের নিয়োগের আগে তাঁদের বাধ্যতামূলক পুলিশি ছাড়পত্র নিতে হয়।

প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা

হাইকোর্ট মনে করে, নগরজীবনে গৃহকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং সমাজে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম। আদালত রাজ্য সরকারকে এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত নির্দেশিকা বা গাইডলাইন তৈরির কথা বলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণ কার্যকর হলে আবাসন ও ব্যক্তিগত বাসভবনে অপরাধের হার কমবে এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও আরও নিরাপদ ও স্বীকৃত হবে। কর্ণাটক হাইকোর্টের এই ইঙ্গিত ভবিষ্যতে পরিযায়ী শ্রমিক সংক্রান্ত প্রশাসনিক নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button