
️ Kharak Singh v. State of Uttar Pradesh (1962)
(AIR 1963 SC 1295)
বিষয়: নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা (Right to Privacy) ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (Personal Liberty)
১. মামলার প্রেক্ষাপট (Background):
- খারক সিং ছিলেন উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তি, যিনি একসময় ডাকাতির সন্দেহভাজন ছিলেন, কিন্তু কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মুক্তি পান।
- মুক্তির পরেও উত্তরপ্রদেশ পুলিশ তাঁকে “Surveillance Register”-এ রেখে গোপনে নজরদারি করতে থাকে।
- পুলিশ তাঁর ওপর নিয়মিতভাবে নিচের কাজগুলো করত—
- রাতে বাড়িতে গিয়ে উপস্থিতি যাচাই,
- দিনরাত চলাফেরার তথ্য সংগ্রহ,
- বন্ধু–আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ পর্যবেক্ষণ।
- খারক সিং দাবি করেন — এসব কাজ তাঁর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘন করছে, যা ভারতীয় সংবিধানের Article 19(1)(d) ও Article 21 দ্বারা সুরক্ষিত।
- তাই তিনি এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করেন।
️ ২. মূল সাংবিধানিক প্রশ্ন (Constitutional Issues):
- পুলিশের গোপন নজরদারি কি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা (Personal Liberty) লঙ্ঘন করে?
- সংবিধানের Article 21-এর “personal liberty” এর মধ্যে কি গোপনীয়তার অধিকার (Right to Privacy) অন্তর্ভুক্ত?
- রাষ্ট্র কি আইনের মাধ্যমে না করে প্রশাসনিকভাবে নজরদারি চালাতে পারে?
৩. সুপ্রিম কোর্টের রায় (Judgment):
- ৬ বিচারপতির বেঞ্চ ৪:২ ভোটে রায় দেয়।
- বিচারপতি রাজাগোপাল আয়ার (Majority opinion):
- সংবিধানে “Right to Privacy” স্পষ্টভাবে উল্লিখিত নয়।
- তাই পুলিশের নজরদারি Article 21-এর সরাসরি লঙ্ঘন নয়।
- তবে, রাতের সময় বাড়িতে প্রবেশ করে নজরদারি করা অবৈধ, কারণ তা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে।
- বিচারপতি সুব্বা রাও (Dissenting opinion):
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা মানে শুধু শারীরিক স্বাধীনতা নয়,
এতে মানসিক শান্তি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও অন্তর্ভুক্ত। - তাই পুলিশের এই নজরদারি Article 21 লঙ্ঘন করে।
- ব্যক্তিগত স্বাধীনতা মানে শুধু শারীরিক স্বাধীনতা নয়,
- সুব্বা রাওয়ের এই ভিন্নমত পরবর্তীকালে Right to Privacy সংক্রান্ত অনেক রায়ের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
৪. রায়ের তাৎপর্য (Significance):
- এই মামলায় প্রথমবার “Right to Privacy” নিয়ে বিচার বিভাগীয় আলোচনা হয়।
- আদালত স্বীকার করে নেয় যে, রাতের নজরদারি নাগরিকের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘন করে।
- যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি,
তবে বিচারপতি সুব্বা রাওয়ের ভিন্নমত পরবর্তীকালে গোপনীয়তার অধিকারের মূল উৎস হয়। - এই মামলাটি Gobind v. State of M.P. (1975) এবং বিশেষভাবে Justice K.S. Puttaswamy v. Union of India (2017)-এর মতো রায়গুলির ভিত্তি তৈরি করে।
- অর্থাৎ এটি ছিল Privacy jurisprudence-এর প্রথম ধাপ।
৫. কেন এটি Landmark Judgment:
- এটি ভারতের ইতিহাসে Right to Privacy–এর ধারণা প্রথম তুলে ধরে।
- সংবিধানের Article 21 (Right to Life and Personal Liberty)-এর ব্যাপ্তি বাড়ানোর পথ তৈরি করে।
- বিচারপতি সুব্বা রাওয়ের মতামত পরবর্তীকালে K.S. Puttaswamy (2017) মামলায় সংবিধানিক ভিত্তি পায়।
- আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে — রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সীমিত, নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা যায় না।
- ভারতের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারের ভিত্তি রচনায় এটি একটি মাইলফলক।
📚 সংক্ষেপে সারাংশ:
| বিষয় | বিবরণ |
| মামলার নাম | Kharak Singh v. State of Uttar Pradesh |
| বছর | 1962 (রায় 1963 সালে ঘোষিত) |
| মূল ধারা | Article 19(1)(d), Article 21 |
| বিতর্কের বিষয় | পুলিশের নজরদারি ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা |
| রায় | রাতের সময় বাড়িতে নজরদারি অবৈধ, কিন্তু Privacy মৌলিক অধিকার নয় (তৎকালীন সময়) |
| গুরুত্ব | Right to Privacy ধারণার সূচনা ও ভবিষ্যতের রায়গুলির ভিত্তি |



