হাইকোর্ট

হিন্দু ধর্ম ত্যাগ না করলে ‘জাতি-ধর্মহীন’ শংসাপত্র নয়: মাদ্রাজ হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্টের মাদুরাই বেঞ্চ একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায়দান করেছে। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ— হিন্দু ধর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে ত্যাগ না করলে কোনো ব্যক্তিকে ‘জাতি নেই, ধর্ম নেই’ (No Caste, No Religion) মর্মে সরকারি শংসাপত্র প্রদান করা যাবে না।

প্রেক্ষাপট ও মামলা: মামলাটি দায়ের করেছিলেন চেল্লামানিক্কাম নামক এক ব্যক্তি। তিনি আদালতে আবেদন জানান যেন তাঁর নথিপত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা জাতির উল্লেখ না থাকে এবং প্রশাসন তাঁকে ‘জাতি ও ধর্মহীন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে শংসাপত্র প্রদান করে। এর আগে স্থানীয় তহসিলদার তাঁর এই আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: মামলার শুনানি চলাকালীন বিচারপতি লক্ষ্য করেন যে, আবেদনকারী চেল্লামানিক্কাম এবং তাঁর পরিবার জন্মসূত্রে হিন্দু। আবেদনকারী নিজেও স্বীকার করেছেন যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেননি। আদালত এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয় যে, একজন ব্যক্তি যদি জন্মগতভাবে একটি ধর্মের অনুসারী হন, তবে সেই ধর্ম থেকে আইনগতভাবে বেরিয়ে আসার প্রমাণ ছাড়া নিজেকে ‘ধর্মহীন’ দাবি করে সরকারি শংসাপত্র পেতে পারেন না।

সরকারি অবস্থান: সরকারপক্ষের আইনজীবী যুক্তি দেন যে, বর্তমানে ‘জাতি বা ধর্মহীন’ শংসাপত্র প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সরকারি আদেশ (Government Order) বা নীতিমালা নেই। ফলে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের ওপর এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে তারা এই ধরনের বিশেষ সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। আদালত সরকারের এই যুক্তিতে সম্মতি প্রদান করে তহসিলদারের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখে।

ভবিষ্যৎ নির্দেশনা: তবে আদালত মামলাকারীর জন্য একটি বিকল্প পথ খোলা রেখেছে। রায়ে বলা হয়েছে, আবেদনকারী যদি সত্যিই তাঁর ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করতে চান এবং সেই মর্মে আইনসম্মত প্রমাণ দাখিল করেন, তবে তিনি পুনরায় নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক নিয়মাবলী পর্যালোচনা করে তাঁর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

উপসংহার: হাইকোর্টের এই রায়ের নির্যাস হলো— স্রেফ ইচ্ছাপ্রকাশ করলেই পরিচয়হীনতার সনদ পাওয়া যাবে না। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মপরিচয় থেকে সরকারিভাবে মুক্তি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট ধর্ম ত্যাগের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button