
কেরল হাইকোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে যে, কোনো মহিলা তাঁর স্বামীর কাছ থেকে ভরণপোষণ পেলেও, নিজের পুত্রের কাছে ভরণপোষণের দাবি জানাতে পারেন। আদালত মনে করে, বয়স্ক মায়ের প্রতি সন্তানের কর্তব্য কেবল নৈতিক নয়, এটি একটি স্বাধীন আইনি বাধ্যবাধকতা।
মামলার কেস রেফারেন্স: Farookh vs Kayyakkutty @ Kadeeja
বিচারপতি কাউসার এদাপ্পাগাথ (Justice Kauser Edappagath) স্পষ্ট করে বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-র ১২৫ ধারা (যা এখন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী, সন্তান যদি সাবালক হয় এবং মা যদি নিজেকে ভরণপোষণ দিতে অক্ষম হন, তবে পুত্রের কাছ থেকে ভরণপোষণ চাওয়ার অধিকার সম্পূর্ণ স্বাধীন। এই আইন অনুসারে, স্বামী জীবিত এবং তাঁর ভরণপোষণে সক্ষম হলেও, তা সন্তানের আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে তাকে মুক্তি দেয় না। যদি মা মনে করেন যে স্বামী যথেষ্ট সহায়তা করছেন না বা প্রয়োজনের তুলনায় কম দিচ্ছেন, তবে পুত্র আইনত তাঁর দায়িত্ব এড়াতে পারে না।
বিচারক জোর দিয়ে বলেন, এই আইনটি একটি সামাজিক ন্যায়বিচারের পদক্ষেপ, যা নিশ্চিত করে যে সচ্ছল ব্যক্তিরা যেন নিজেদের উপর নির্ভরশীলদের ভরণপোষণ করেন।
এই পর্যবেক্ষণটি এসেছে এক ব্যক্তির করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে তিনি পারিবারিক আদালতের দেওয়া রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন। পারিবারিক আদালত তাঁর ৬০ বছর বয়সী মাকে মাসিক ₹৫,০০০ টাকা ভরণপোষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।
মামলার বাদী, অর্থাৎ পুত্রটি গাল্ফে চাকরি করেন। তিনি দাবি করেন যে তাঁর মা গবাদি পশু পালন করে যথেষ্ট আয় করেন। এমনকি তাঁর বাবা (যিনি একজন মাছ ধরার নৌকার মালিক) মাকে ভরণপোষণ দেন, তাই পুত্রের বিরুদ্ধে তাঁর মায়ের এই দাবি চলতে পারে না।
হাইকোর্ট এই যুক্তি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেয়। আদালত মন্তব্য করে যে, একজন বিত্তবান পুত্রের পক্ষে ৬০ বছর বয়সী মাকে জীবিকা নির্বাহের জন্য গবাদি পশু পালনের কথা বলা দুর্ভাগ্যজনক এবং অনুচিত। আদালত জানায়, এটি পুত্রের নৈতিক ব্যর্থতা এবং মায়ের মর্যাদা ও সুস্থতার প্রতি অবজ্ঞার পরিচায়ক। পুত্র তার নিজস্ব পরিবার আছে এই অজুহাতেও বয়স্ক বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়াতে পারে না।
পারিবারিক আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করে দেয়।



