প্রযুক্তিগত ত্রুটির অজুহাতে ‘ডিফল্ট বেইল’ আটকানো যাবে না: নতুন ফৌজদারি আইন BNSS নিয়ে বড় রায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের

ভারতের নতুন ফৌজদারি কার্যবিধি ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা’ (BNSS)-এর অধীনে জামিন সংক্রান্ত এক যুগান্তকারী রায় দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, BNSS-এর ধারা ৪৮০(৬) অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হলে অভিযুক্তের ‘ডিফল্ট বেইল’ বা স্বাভাবিক জামিন পাওয়ার অধিকার তৈরি হয়। কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা প্রশাসনিক অজুহাত দেখিয়ে এই আইনি অধিকার খর্ব করা যাবে না।
মামলার প্রেক্ষাপট: মামলাটি ছিল ‘রমাসঙ্কর শাহ বনাম মধ্যপ্রদেশ রাজ্য’ সংক্রান্ত। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও হুমকির অভিযোগ ছিল। নিম্ন আদালতে চার্জ গঠনের পর প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল ২৬ আগস্ট, ২০২৫। কিন্তু এরপর সাক্ষী অনুপস্থিত থাকা, আদালতের কার্যক্রম স্থগিত হওয়া এবং বিচারবিভাগীয় পরোয়ানা জারির মতো নানা কারণে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। আইন অনুযায়ী সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি।
আইনি সংঘাত: রমাসঙ্কর শাহ নিম্ন আদালতে ডিফল্ট বেইলের আবেদন জানালে ম্যাজিস্ট্রেট তা খারিজ করে দেন। বিচারকের যুক্তি ছিল, অপরাধের প্রকৃতি গুরুতর এবং এর আগে নিয়মিত জামিনের আবেদন নাকচ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ ম্যাজিস্ট্রেটের যুক্তিটিকে ‘আইনি ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। আদালত ব্যাখ্যা করে যে, BNSS-এর ধারা ৪৮০(৬) একটি বিশেষ বাধ্যতামূলক বিধান। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো জামিন অযোগ্য অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ৬০ দিনের মধ্যে শেষ না হয় এবং অভিযুক্ত যদি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকেন, তবে তাঁকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে (যদি না আদালত লিখিত কোনো বিশেষ কারণ দর্শান)। এটি সাধারণ জামিনের আবেদনের মতো নয়, বরং এটি সময়ের সীমাবদ্ধতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া একটি অধিকার।
আদালতের নির্দেশ: হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ বাতিল করে রমাসঙ্কর শাহর জামিন মঞ্জুর করে। আদালত নির্দেশ দেয় যে, ৫০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ড এবং সমপরিমাণ জামানত জমা দেওয়ার শর্তে অভিযুক্তকে মুক্তি দিতে হবে। সেই সঙ্গে আদালত সতর্ক করে যে, বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্বের দায় অভিযুক্তের ওপর চাপিয়ে তাঁর আইনি সুবিধা কেড়ে নেওয়া যাবে না।
উপসংহার: এই রায়ের মাধ্যমে এটি পরিষ্কার হয়ে গেল যে, নতুন আইনের অধীনে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে আদালত দায়বদ্ধ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রায়াল শেষ না হলে অভিযুক্তকে মুক্তি দেওয়া এখন থেকে বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়ায় পরিণত হলো।


