খবরাখবর

ভুয়ো আদালতে ‘বিচারপতি চন্দ্রচূড়’-এর সাজা! মুম্বাইয়ের বৃদ্ধার থেকে ৩.৭১ কোটি টাকা লুটল সাইবার প্রতারকরা

মুম্বাইয়ের অন্ধেরি ওয়েস্টের এক বাসিন্দা ডিজিটাল দুনিয়ার এক ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হলেন। ৬৮ বছর বয়সী এক প্রবীণ মহিলাকে ভয় দেখিয়ে এবং ভুয়ো ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর জালে ফাঁসিয়ে প্রায় ৩.৭১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার অপরাধীরা। এই প্রতারণার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো, প্রতারকরা খোদ প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি.ওয়াই. চন্দ্রচূড় সেজে ভুয়ো ভিডিও শুনানি পর্যন্ত করেছিল।

কীভাবে চলল এই অপারেশন?

ঘটনাটির সূত্রপাত ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট। ওই মহিলার কাছে একটি ফোন আসে, যেখানে এক ব্যক্তি নিজেকে কোলাবা থানার পুলিশ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেয়। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিশাল অংকের বেআইনি লেনদেন বা ‘মানি লন্ডারিং’ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ওই মহিলা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

এরপর শুরু হয় হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ভিডিও কলের অত্যাচার। ‘এসকে’ নামের এক ব্যক্তি তাঁকে ক্রমাগত জেরা করতে থাকে এবং তাঁর ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত সমস্ত গোপন তথ্য দাবি করে। প্রতারকরা কিছু জাল আইনি নথিপত্র পাঠিয়ে বিশ্বাস জন্মায় যে, তাঁর বিরুদ্ধে বড়সড় মামলা চলছে এবং সহযোগিতা না করলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার করা হবে।

ভুয়ো ‘ডিজিটাল আদালত’ ও জালিয়াতি

প্রতারণার চূড়ান্ত পর্যায়ে এক ব্যক্তি নিজেকে “জাজ চন্দ্রচূড়” হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভিডিও কলে হাজির হয়। একটি সাজানো আদালত কক্ষের মতো পরিবেশে ওই মহিলার তথাকথিত শুনানি নেওয়া হয়। মহিলা নিজেকে নির্দোষ দাবি করলে ওই ভুয়ো বিচারক তাঁর জামিন খারিজ করে দেয় এবং তদন্তের স্বার্থে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ভয়ে এবং আইনি ঝামেলার হাত থেকে বাঁচতে ওই মহিলা কয়েক দফায় আরটিজিএস (RTGS)-এর মাধ্যমে মোট ৩.৭১ কোটি টাকা প্রতারকদের দেওয়া বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। তাঁকে বিশ্বাস করানো হয়েছিল যে, তদন্ত শেষে এই টাকা ফেরত দেওয়া হবে। কিন্তু টাকা পাঠানোর পর যখন আরও টাকার দাবি করা হয়, তখন তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি এক বিশাল জালিয়াতির শিকার হয়েছেন।

পুলিশি পদক্ষেপ

মহিলাটি সাইবার থানায় অভিযোগ জানালে তদন্তে নামে পুলিশ। দেখা যায়, হাতিয়ে নেওয়া টাকা বিভিন্ন ‘মুল’ (Mule) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এই চক্রের সন্ধানে নেমে গুজরাটের সুরাট থেকে একজনকে গ্রেফতার করেছে।

সতর্কবার্তা: প্রশাসন ও আইন বিশেষজ্ঞরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, পুলিশ, সিবিআই বা কোনো আদালত কখনও হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে ‘অ্যারেস্ট’ করে না বা টাকা দাবি করে না। এই ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করা উচিত।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button