
জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ন্যাশনাল হেরাল্ড অর্থ তছরুপ মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দাখিল করা চার্জশিট নিয়ে রায়দান স্থগিত রাখল দিল্লির একটি আদালত। এই মামলায় কংগ্রেস নেতা সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী-সহ আরও অনেকে অভিযুক্ত।
রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক বিশাল গগনে এই মামলার রায়দানের দিন পিছিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর ধার্য করেছেন।
এর আগে গত ৭ নভেম্বর আদালত ইডি-র এই চার্জশিটের ওপর রায়দান সংরক্ষণ করে রেখেছিল। তবে মামলা সংক্রান্ত নথি আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য আদালত রায় ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা আরও বাড়ল।
মামলার পটভূমি ও ইডি-র অভিযোগ
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর অভিযোগ, সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারিত্ব থাকা ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান’ (Young Indian) কোম্পানিটি প্রায় ২,০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনিভাবে অধিগ্রহণ করেছে। ইডি-র দাবি, ‘অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড’ (এজেএল)-এর (যারা ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র প্রকাশ করত) সম্পত্তি মাত্র ৯০ কোটি টাকার ঋণের মাধ্যমে ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান’ দখল করে নিয়েছে। সংস্থাটি আরও অভিযোগ করে যে, এটি একটি প্রতারণামূলক লেনদেন এবং এর মাধ্যমে অর্থ তছরুপ (Money Laundering) করা হয়েছে। চার্জশিটে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী ছাড়াও সাম পিত্রোদা, সুমন দুবে এবং কোম্পানি ‘ইয়ং ইন্ডিয়ান’-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের পক্ষের বক্তব্য
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে যে, আয়কর বিভাগ (Income-Tax Department) নিজেরাই ৯০ কোটি টাকার ঋণ লেনদেনটিকে ‘ভুয়ো’ (Sham Transaction) বলে আখ্যা দিয়েছে। সুতরাং, ‘অপরাধের অর্থ’ (Proceeds of Crime) ছাড়াই ইডি-র এই অর্থ তছরুপের মামলা ভিত্তিহীন। কংগ্রেস নেতা এবং বরিষ্ঠ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ইডি-র এই মামলাটিকে ‘অভূতপূর্ব’ (unprecedented) বলেও আখ্যা দিয়ে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আদালতের আগামী ১৬ ডিসেম্বরের নির্দেশ এই মামলার গতিপ্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।



