
তফসিলি জাতি ও উপজাতি (SC/ST) নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের প্রয়োগ নিয়ে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, কাউকে তাঁর পেশা-সম্পর্কিত শব্দ দিয়ে সম্বোধন করা মানেই তা জাতিগত অপমান নয়। যদি শব্দগুলো ব্যবহারের পেছনে নির্দিষ্টভাবে কাউকে হেয় করার বা জাতিগত বিদ্বেষ ছড়ানোর উদ্দেশ্য না থাকে, তবে তা এই আইনের আওতায় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না।
মামলার পটভূমি: ঘটনাটি শুরু হয়েছিল একজন গৃহকর্মী এবং তাঁর নিয়োগকর্তার মধ্যে বকেয়া বেতন নিয়ে বিবাদকে কেন্দ্র করে। ওই গৃহকর্মী অভিযোগ করেন যে, বকেয়া টাকা চাওয়ায় তাঁকে জাতিগত পরিচয় তুলে গালিগালাজ ও অপমান করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ অভিযোগটিকে ভিত্তিহীন বললেও, পরবর্তীতে নিম্ন আদালত একটি প্রোটেস্ট পিটিশনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে। এরপর মামলাটি হাইকোর্টে গড়ায়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি অনিল কুমারের বেঞ্চ মামলাটি পর্যালোচনার পর জানান, একজন কর্মীকে তাঁর কাজের ধরণ অনুযায়ী সম্বোধন করা (যেমন ‘ধোপানি’ বা ‘কর্মী’ বলা) স্বয়ংক্রিয়ভাবে SC/ST আইনের আওতাভুক্ত হয় না। আদালত মনে করে, এই আইনের ৩(১)(ডিএ) বা ৩(১)(ডিএইচএ) ধারার প্রয়োগ তখনই সম্ভব, যখন এটি প্রমাণিত হবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে তাঁর জাতির কারণে জনসমক্ষে অপমান বা নিচু করার চেষ্টা করেছেন। বর্তমান মামলায় জাতিগত বিদ্বেষের চেয়ে বেতন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিবাদই বেশি স্পষ্ট ছিল।
রায়ের ফলাফল: আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে SC/ST আইনের অধীনে জারি করা সমন বাতিল করে দিয়েছে। তবে বিচারপতি জানান, জাতিগত অপরাধ প্রমাণিত না হলেও অন্যান্য সাধারণ অপরাধের বিচার চলবে। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩২৩ (আঘাত করা), ৫০৪ (শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে অপমান) এবং ৫০৬ (হুমকি দেওয়া) ধারার অধীনে মামলাটি ট্রায়াল কোর্টে অব্যাহত থাকবে।
সারসংক্ষেপ: এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায়ের মূল নির্যাস হলো—আইনটি তৈরি হয়েছে প্রান্তিক মানুষকে রক্ষার জন্য, ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর জন্য নয়। ভাষা বা আচরণে যদি নির্দিষ্টভাবে জাতিগত অবমাননার প্রমাণ না থাকে, তবে শুধুমাত্র পেশাগত শব্দ ব্যবহারের কারণে কাউকে এই কঠোর আইনের অধীনে অভিযুক্ত করা যাবে না।


